দর্পণে বিম্বিত আজি

একে বক্ষ দ্বি-বিভক্ত, তাতে স্কন্ধে তিনটি মাথা,
চতুর্পদে হোঁচট-রক্ত, পঞ্চযোনি অনাঘ্রাতা,
ষড়াঙ্গুলে নখসম্ভার, সপ্তকন্ঠে কিচিরমিচির,
অষ্টহস্ত জগদম্বা, উপমাংস আনখশির,
নয় বগলে কৃষ্ণকেশর, দশোষ্ঠী বিম্বাধরী,
লোলচর্ম ধূম্রধূসর – কি সুন্দরী! কি সুন্দরী!

যেখানে বাঘের ভয় 

জন্ম নিয়ে বাঘশতকে
`ছা’ বললে কি ছাড়া পায়?
কাদের ছাগল! কারা খায়!

দন্তী না শৃঙ্গী না,
মারকাটারি ভঙ্গী না।
ভয়ের বেলুন ফাটাবে?
চোদ্দ বাঘে চাঁটাবে।

অতঃকিম
তা দিয়ে যায় ভীতুর ডিম,
অন্ধকারে দাঁড়ায়না,
ঘাসবনে ফড়ফড়ায়না,
বাঘডহর-ই মাড়ায়না।

বাঘের-ও তো বেঘো বুদ্ধি -
শেষটা এসে বলল যদি
`আমার সঙ্গে শয়ন কর্’?

ওরেব্বাবা! ভয়ংকর!

শেষ জাফরান

(আগা শাহিদ আলীর The country without a post office-এর ১টি কবিতার অনুবাদ)

জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে জাফরান চাষের পরেই ডাল লেকে নৌকা বাওয়া।

আমার মৃত্যু হেমন্তে, কাশ্মিরে,
ছায়াচ্ছন্ন ধমনী নিত্যদিন
সংবাদ হবে, রক্ত সমালোচিত,
গেরুয়া সূর্যে, বিহানে বর্ষালীন,

প্রথমে বাজারে, ধ্বংসে অতঃপর,
ট্যাক্সির চেনা স্ট্যান্ডে অবধারিত।
কে গেছে টাঙিয়ে ট্যাবলয়েডের কাঁদি
ব্যাঙ্কের ধারে বেড়ায় প্রলম্বিত,

নিরুদ্দিষ্ট যুবকের শিরোনামে
শোণিতচিহ্ন সন্ধান করে চলি -
গত বসন্তে বন্যা যাদের টেনে
ঘুলিয়ে মেরেছে, কন্ঠে ভরেছে পলি।

জল নেমে গেলে ঝিলাম অপসৃত
মৃত মানুষের ধনভান্ডার খিঁচে,
টাকার ঝিলিকে ঝলসে বালির চড়া -
রেয়াত না করা নদী, তার পিছে পিছে -

ঢেউ খুঁড়ে সেই ধন সন্ধান পেলে
হাঁকাবো সারথি, মজুরি পড়ুক ভারী,
মেপল পাতার মতন সবুজ চোখে
সারথি আমার প্রায় যথেচ্ছাচারী,

“কার্ফ্যু ভেঙ্গেও আমার রথের খেই
অরোধ্য, শুধু মৃতের সমাধিতলে
পুষ্পস্তবক রাখার নিয়ম নেই।”

অক্টোবরের শেষদিকে ঐদিন আমি মারা যাব – অনেকদিন আগে :

সে আমাকে প্যামপোরে নিয়ে যাবে যেখানে আমি ফুল জড়ো করে তারপর দুরে রাখা ট্যাক্সিতে ফেরত আসব, কত সহস্র পুংকেশর আমার হাতে গুঁড়ো গুঁড়ো লাল: আমি চিত্কার করব : “জাফরান, আমার দামটা!” আর সে সমস্ত সীমা ভেঙ্গে আমার প্রত্যেকটা উড়ো খবরকে তাড়া করে যাবে। “শাহিদের কি হয়েছে কেউ জানেনা”, আমরা বার বার শুনতে পাব প্রতিটি টী হাউসে – নিশাতের, নাসিমের। সে শালিমার ঘাটে রথ থামাবে আর আমরা সিঁড়ি বেয়ে জলের দিকে নামব। সে নদীর পাড় থেকে একমানুষ মাটি তুলে নেবে। আমি – তার শেষ যাত্রী। হঠাতই সে বুড়ো হয়ে যেতে থাকবে, তার গলা খুনখুনিয়ে যাবে, তার দৃষ্টি সবুজ জল টলটল আমাকে ধুয়ে… : “প্যামপোরের পোড়া মাটিতে এই স্বর্ণফসল আর কোনদিনও ফলবেনা।” আর সে সেই মুক্ত ক্ষেত রুয়ে যাবে সিকিউরিটি জোনের ওপার পর্যন্ত, যাতে ঢেউয়ের উপরে অস্তমান জাফরান সূর্যে আমার রক্ত সংবাদ হয়ে ওঠে।

হাঁ আমার মনে আছে,
আমার মৃত্যুদিনে, আমি গাঢ় লাল রং সম্প্রচার করেছিলাম।
বহুদিন আগেকার কথা – আকাশে বাতাসে
রঙের পশলা, আর মাটির শিরা বেয়ে
রক্ত, তীর ছেড়ে মৃত্যুর দিকে যাবার সময়
গার্ডদের পাশ কাটিয়ে যেতে হয়, আর সে
শেষ জাফরানের পাহারাদার, নৌকো বেয়ে বেয়ে
আমাকে একটা লাশের সাইজের দ্বীপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, দুহাত
বাইলেই সূর্যাস্ত, যেখানে সব যন্ত্রণার অবসান।
সবার মুখে মুখে,
আমার মৃত্যুর খবর, কিন্তু তার মৃত্যুসংবাদ
শুধুমাত্র সেই দুটি ছত্রে ধরা আছে :

“ভূস্বর্গ বলে যদি কিছু থেকে থাকে,
এখানে, সে এখানে, সে এখানেই। ”

(বিদুর ওয়াজিরের জন্য)

আয়নানগর

গতরাত জাল ফেলাতে পড়ল ধরা হলদে খবর,
এঁঠো হাত, আঁশটে সকাল, প্রতিচ্ছবি – আয়নানগর।
বহুদূর দিচ্ছে পাড়ি মাল্টিপদে নিউরোনেরা,
মিঠে সুর বুকপকেটে – যেই সবেরা তেঁই বসেরা।
যেন এক বৃদ্ধ পাচক ফোড়ন মারছে গঙ্গাজলে,
বৃথা ঠেক স্বর্গদ্বারে – সেই কুচিয়ে নাক কাটালে।
মরি হায়! ঠাঁই কোথা পাই! খাসবুনোটে সোনার তরী!
হামেশাই ইচ্ছে জাগে বিন্ টিকিটে যাত্রা করি…

বেলা দ্বিপ্রহর

ক্লান্ত অতি, সিক্ত আকেশর,
তীক্ষ্ণ রোদে চড়ে ডাইনোসর;
বন্যপুষ্পে সুগন্ধ আনোখা,
ঘুরঘুরোচ্ছে ঘুরঘুরোনো পোকা।

জয়জয়ন্তী ঝালার সপাট তান
খেলাচ্ছলে ধরল কাদের খোকা;
যদিও সঠিক সমস্ত বানান,
ঘুরঘুরোবেই ঘুরঘুরোনো পোকা।

অন্তরালে বিশ্ব যথাযথ
বৃক্ষ এবং দুঃখহরণরত,
হাত বাড়ালেই আনন্দঝরোকা;
ঘুরঘুরাতীত – ঘুরঘুরোনো পোকা।

প্রেমপত্র

কি বিচিত্র দেশ দেখালি সত্য সেলুকাস!
দন্ডে মুন্ডে আন্ডা মেখে ভর্তা করে খাস।
রূপে তোমায় গোলাবো না গো, ময়দা ঠেসে গোলাবো,
গান্ডে পিন্ডে বিশ্রী কান্ডে ভবি তোমার ভোলাবো।

কি বহিত্রে দাঁড় টানালি সত্য সেলুকাস!
তিতিবিরক্ত ঘর্মসিক্ত দারুণ ভাদ্রমাস।
ওই দেখ গো আজকে আবার পাগলী জাগে মাস্তুলে,
রিক্ত হাতে তাল ঠুকে খায় শুক্তোভাতে, পাল তুলে।.

কি প্রচন্ড খাল কাটালি সত্য সেলুকাস!
অত্র তত্র যাত্রা বন্ধ পঞ্জিকা সন্ত্রাস।
খ্যায়ের, পায়ের জবা হয়েই ফুটুক তোমার কুসুম মন,
পাত্রাপাত্র-বিভেদ ছেতরে – অর্ধরাত্রে সমর্পণ।

কি হন্ডাতে স্টার্ট মারালি সত্য সেলুকাস!
বহ্নিশিখা দেয়ালা করে – তুই বেয়ালা বাজাস!!
কোথায় ছিলেন বাপ এতকাল? কোন শ্রাবস্তী? মালয়ে?
ক’য় পেয়ালা সাঁটিয়ে এলেন ভোঁ-গাড়ি টালটালয়ে?

.