উড়ুক্কু বিদ্যাসঙ্গীরা

 

(জয়ঢাক, শীত ২০১৪ সংখ্যা)

আমরা প্রায়ই নানান চারপেয়ে বা উড়ুক্কু বা জলচর প্রাণীর সাথে পোষা কিম্বা বুনো দোস্তি পাতাই বা পাতাবার চেষ্টা করি। বন্ধুত্ব জিনিসটায় বাছাবাছি-দরাদরি নেই। কলকাতায় থাকতে মানুষ-বন্ধুদের আড্ডা ছেড়ে বাইরে তাকাবার সময় পেতামনা বলেই হয়ত এব্যাপারটা নিয়ে তত খুঁটিয়ে ভাবিনি কখনো। এখন কলকাতার বাইরে পড়াশুনো করতে এসে পদে পদে এসব নতুন করে শিখছি।

chhobi1 (2)

তোমরা তো জানো, এই একশ বছর আগেও এদেশে মেয়েরা বাড়ির বাইরে গিয়ে লেখাপড়া করছে এটা ভাবা দূরের কথা, মেয়েরা লেখাপড়া আদৌ করছে এটাই অনেক ক্ষেত্রে একটা মহা অসম্ভব বিষয় ছিল। সেখান থেকে আজ আমরা এমন একটা জায়গায় পৌঁছেছি, যেখানে মেয়েরা রীতিমত শুধু পড়াশুনো করছে তাই নয়, পৃথিবীর নানান জায়গায় গিয়ে একা একা হোস্টেলে কিম্বা ঘরভাড়া করে থেকে, এইসব একা থাকার হাজার ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট একটুও গায়ে না মেখে জটিল বৈজ্ঞানিক গবেষণা করে মস্ত মস্ত জিনিস আবিষ্কার করে ফেলছে। একসময় লোকে কিছু না জেনেশুনেই দাবি করত মেয়েরা অঙ্ক বোঝেনা, আজও যে করেনা তা নয়। অথচ এইতো গত বছর অঙ্কে ভাল গবেষণা করার যেটা সবচেয়ে বড় পুরস্কার, সেই ফিল্ডস মেডালও পেয়েছেন ইরান থেকে এক মেয়ে গণিতজ্ঞ।

মেয়েরা দিব্যি চমৎকার অঙ্ক কষতে পারে। আমার মত বোকাসোকা, আঠেরো-মাসে-বছর মেয়েই ঘষটে ঘষটে অঙ্ক নিয়ে খানিকদূর পড়াশুনো করে ফেলল বলে! অবশ্য ছোটবেলা থেকে অঙ্ক করলে অন্য-অন্য সাবজেক্টের থেকে খাতায় কম লিখতে হয় বলেই কিনা উৎসাহের সাথে অঙ্ক কষতাম! অর্থাৎ অঙ্কটাই কষতাম, বাদবাকি ক্লাসগুলোতে বেঞ্চের নীচে লুকিয়ে গল্পের বই পড়তাম। তাই যখন কলেজে উঠে কিছু একটা বিষয় বেছে নেওয়ার কথা উঠল, পরিষ্কার বোঝা গেল অঙ্ক ছাড়া অন্য কোন বিষয়ের মাস্টাররা আমায় তাঁদের ক্লাসে নেবেনইনা। সেই থেকে অঙ্ক নিয়ে পড়তে পড়তে এখন দেখছি কিভাবে যেন ব্যাঙ্গালোর শহরে এসে উপস্থিত হয়েছি। ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইন্সটিটিউটের – যাকে ছোট করে আই.এস.আই. বলে – নাম শুনেছ? ডঃ প্রশান্তচন্দ্র মহলানবীশ যার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন? আমাদের কলকাতার বরানগরে তার মূল ক্যাম্পাস হলেও গত কয়েক দশকে দেশের নানান কোণে তার একেকটি বিভাগ তৈরি হয়েছে। আমি সেই আই.এস.আই.-এর ব্যাঙ্গালোর ক্যাম্পাসে রয়েছি। গুণীজনের সঙ্গ করছি, খুটখাট অঙ্ক করার চেষ্টা করছি…

এখন এই পৃথিবীর নানান কোণে গিয়ে একা একা অঙ্ক কষার মজাও যেমনি রয়েছে, তেমনি আবার কষ্টের দিকও আছে একটা। এক তো বাবা, মা, মামাত বোন, পোষা বেড়াল টোবি, গানের স্কুলের বেস্ট ফ্রেন্ড মিলি আর স্কুলের বেস্ট ফ্রেন্ড ভোম্বলকে ছেড়ে বিদেশ-বিভূঁইয়ে থাকা – তা সে নতুন বন্ধুও হয় অনেক আর তারা ভালওবাসে খুব, কিন্তু ঐ নিজের বাড়িতে নিজের পুরনো কম্বলটি জড়িয়ে যমুনাদিদির ভাজা আলু-গোলমরিচ খেতে খেতে পাঁচবার পড়া গল্পের বইটি ছ’বারের বার খুলে বসার মধ্যে যে ‘গুষ্টিসুখ’, সেটি ঠিক হয়না – সে যাই বল আর তাই বল। তার উপর অঙ্ক না মেলার জুজু যখন একবার ঘাড়ের উপর ভর করে, তখন সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস সেই একই প্রশ্নকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানারকম করে দেখা আর দিনের শেষে হতাশ হয়ে চুল ছেঁড়ার রুটিন। সেসময় প্রায়ই মনে হয়, অনেক হল, এবার মানে মানে ঘরে ফিরে যাই, রান্নাবান্না শিখি। সেরকম শোচনীয় অবস্থা হলে মাঝে মাঝে এমনটিও মনে হয় যে যদি অ্যালিসের মত কোন এক ওয়ান্ডারল্যান্ডে গিয়ে পড়া যেত, যেখানে সমস্তকিছুই চলে আমাদের জগতের অঙ্কের যুক্তির উল্টোপথে, তাহলে চমৎকার হয়।

এসমস্ত কথা শুনে হয়ত বুঝতে পারছ, আজ যেকথা নিয়ে লিখতে বসেছি সেটা একটু দুঃখের। একেকদিন সকালবেলা দাঁত না মেজে, একা-একা কেলেকুষ্টি চায়ের কাপ হাতে নিয়ে হোস্টেলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বুকের মধ্যে এমন একটা হু-হু করা ভাব জেগে ওঠে, যেটা বলে বোঝাবার নয়। তা ঠিক সেই মুহূর্তে টিক্‌-টিক্‌, চিঁ- চিঁ, কুইক্‌-কুইক্‌, ক্রাক্‌-ক্রাক্‌, কুড়রুক্‌- কুড়রুক্‌, ছিক্‌…ছিক্‌ – কামারের লোহা ঠুকবার মত শব্দ, বেলুনের সুতো খুলে হাওয়া বেরিয়ে যাওয়ার মত শব্দ, কুঁয়োর নীচ থেকে শিস দেওয়ার মত শব্দ – এমনি হাজার এক শব্দ একসাথে আদা-তুলসীপাতার পাঁচনের মত কানে ঢুকে ভিতরটা এমন উষ্ণ-গরম করে তোলে যে নিজেকে তখন আর ভুলেও একটুও একা-বোকা বলে মনে হয়না। তাই বলছি, দুঃখের কথা বলব বলেছি বলে আবার এক্ষুনি পা ছড়িয়ে কাঁদতে বোসোনা যেন, এটা সেইরকম দুঃখের গল্প যার শেষটা ভাল। ঠিক আইসক্রিম-ফুচকা, ছোটা ভীম কিম্বা ফি-রবিবারে নিক্কো পার্কের মত ভাল না হলেও একটু অন্যরকম ভাল।

আমাদের দেশে গবেষণামূলক বিদ্যাকেন্দ্র বা রিসার্চ ইন্সটিটিউটগুলি, যেখানে বড় বড় গবেষকরাও কাজ করেন, আবার সদ্য কলেজে ঢোকা বা কলেজ পাশ করা ছাত্রছাত্রীরাও কাজ করেন, সাধারণত বেশ সুন্দর করে সাজানো হয়। মানে গাছপালা লাগান হয়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। অন্তত যে এলাকায় ইন্সটিটিউট বানান হচ্ছে, তার আশেপাশের শহুরে ঝুটঝামেলা, দূষণ, গাড়িঘোড়ার তুলনায় যথাসম্ভব গুছিয়ে, যত্ন করে বড় বড় সুন্দর গবেষণা-ভবনগুলি তৈরি করা হয়। তাই যদি যাও তো দেখবে যত গ্যাঞ্জামের মধ্যেই ইন্সটিটিউটটি থাক না কেন, তার মেইন গেট পার হলেই এক শান্তশীতল গাছগাছালি-পাখপাখালির জগত। আসলে গবেষণা থেকেই তো দেশের উন্নয়ন হয়, তাই দেশের সরকারও যতটা পারেন টাকাপয়সা দিয়ে, সুবন্দোবস্ত করে, যাতে গবেষকদের শরীর-মন-মেজাজ ভাল থাকে সেই চেষ্টা করেন, যাতে তাঁরা আরও ভাল কাজকর্ম করতে পারেন।

আই.এস.আই. ব্যাঙ্গালোরের এই ক্যাম্পাসটিও ভারি সুন্দর। জঙ্গল কেটে তৈরি বটে, কিন্তু সেই জঙ্গলের সিংহভাগটিই এখনও এখানে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। নিচের ছোট ম্যাপটাতে এই ক্যাম্পাসের চেহারা কেমন তার খানিকটা আভাস দেওয়ার চেষ্টা করলাম। ঐ গাঢ় সবুজ জায়গাগুলো সবই বুনো জঙ্গল।

chhobi2

আমি থাকি ঐ রিসার্চ স্কলার হোস্টেলের তিনতলায় জঙ্গলের দিকে বারান্দা খোলা একটা ঘরে। রোজ সকালে স্লাইডিং দরজা খুললেই উল্টোদিকে বনের সীমানায় দাঁড়িয়ে যে তেঁতুলগাছটায় ইয়া ইয়া সাইজের তেঁতুল ফলে সেটা চোখে পড়ে। আর সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ থেকে শুরু করে প্রায় ঘণ্টা খানেক সেটার এডালে ওডালে কতরকম যে পাখি দেখা যায়! কুবো, টুনটুনি, টিয়া, বাঁশপাতি, লাল-পেট বুলবুলি, শালিক আর কাঁড়ি কাঁড়ি ছাতারে তো আছেই, তার সাথে ছোট আর বড় বসন্তবৌরী, বেনেবউ, কোকিল, পাপিয়া, শঙ্খচিল, ভোরের দোয়েল পাখি… কি একরকমের ভারি সুন্দর কমলা-ডানা কাল ঝুঁটি বুলবুলিও দেখেছিলাম একবার। তাকে ওর আগে শেষ দেখেছি মহারাষ্ট্রের অজন্তা গুহা দেখতে গিয়ে – একা বসে একটা গুহার বাইরে যক্ষীমূর্তির স্কেচ করার চেষ্টা করছিলাম। হঠাৎ সামনে দিয়ে উড়ে গিয়ে একটা পাথরের উপর বসে খানিক্ষণের জন্য একেবারে হতবাক করে দিয়েছিল। পাথরের যক্ষীমূর্তি সুন্দর, কিন্তু তার দিক থেকে কয়েক মুহূর্ত চোখ ফেরালেও সে ফুড়ুৎ করে পালিয়ে যাবে তার সম্ভাবনা কম। এই উড়ুক্কু কমলাসুন্দরীর তো আর আমার ভাল লাগবে বলে হাঁ করে বসে থাকার সময়-সুযোগ নেই।

সব পাখি অবশ্য সমান ছটফটে নয়। কুবো পাখি দেখেছ নিশ্চয়? এ-ই কটা লাল চোখ আর ডানা আর কুচকুচে কালো গা, একখানা রীতিমত বড়সড় কোকিলের মত। এমন তোমার দিকে টকটকে লাল চোখ রাঙিয়ে তাকাবে যে তুমিই বুঝি উড়ে পালাতে পারলে বাঁচো। আমার ঠাকুমা বলতেন ওর আরেক নাম নাকি যম-কোকিল! ওদিকে মেয়ে কোকিল আর পাপিয়ার চেহারায় খানিক মিল রয়েছে বলে আমার মাঝেমধ্যেই ভুল হয়ে যায় – সারাগায়ে জেব্রার মত দাগ কাটা, তবে ডাক একদম আলাদা, সত্যি বলতে কি মেয়ে কোকিলকে ডাকতে শুনেছি বলেই মনে পড়ছেনা কখনো! আমাদের সমাজে অমনি বৌ পেলে পুরুষমানুষেরা কী খুশিই না হতেন!

বাঁশপাতি পাখি ঠিক বাঁশের পাতারই মত, পাতলা হিলহিলে সবুজ রঙের। খালি চোখের কাছটায় নীল রঙের আভাস, মাথার উপরদিকটায় একটু গেরুয়া মত, চোখের উপর কাজল টানার মত কালো রঙ আর লেজের মধ্যিখানটা সরু কাঠির মত বেরিয়ে আছে; অমনি চেরা লেজ বলে ওর আরেক নাম নরুণচেরা। ভারি সুন্দর টুরুক-টুরুক ডাক। অথচ টিয়ার মতন ঝলমলে স্মার্ট পাখির কি কর্কশ কণ্ঠটি! টিয়াপাখিরা খুব ঝগড়াটেও হয় বটে, কুঁদুলে মেয়েরা যেমন টেনে খোঁপা বেঁধে দল পাকিয়ে ঝগড়া করে।

কাজলটানা চোখের আরেক পাখি হল বেনেবউ, কাঁচা সোনার মত হলুদ বর্ণ বলে ওর ঐ নাম। শঙ্খচিলের মাটিরঙের শরীরে গম্ভীর শাদা গলা ও মাথা – দাক্ষিণাত্যের ভস্মমাখা ব্রাহ্মণদের মত, তাই বোধহয় ওর ইংরিজি নাম ব্রাহ্মিনি কাইট। ছোট বসন্তবৌরীর এতটুকু সবুজ দেহের সর্বাঙ্গে নানা রঙের ছোপ। আমাদের শৈশবে পাখি চেনার জন্য একখানা ছড়া কাটা বই ছিল, তাতে বসন্তবৌরীকে নিয়ে লেখা দু’লাইন আমার এখনও মনে আছে – “সেজেগুজে বসে আছে বসন্তবৌরী/ ঠিক যেন বসে আছে কনে সেজে গৌরী”। সত্যি ও যেন এক রূপসী বালিকা বধূর মত সর্বাঙ্গসজ্জিত, কিন্তু হায়াকায়া কি এখনও শেখেনি, খালি ছোট্ট ছোট্ট লাফে চারদিকটা ঘুরে দেখে নেবার শখ।

এ তো গেল তেঁতুলগাছের আদাড়ে-পাছাড়ে যাদের বাস তাদের কথা। কখনো আবার পিছনের ইউক্যালিপটাস বনের পিছন থেকে ধীরলয়ে – যেন কোন তাড়াই নেই, এইরকম ভাব করে ডানা নাড়তে নাড়তে উড়ে আসে বাদামী চিল। মাঝেমাঝে সর্বঘটে কাঁঠালি কলার মত উপস্থিত কাকেদের সাথে তার বচসা লেগে গেলে তখন ঐ রাজকীয় পাখির বড় দুরবস্থা হয় – সে হয়ত তোমরা তোমাদের শহরেও বাড়ির ছাদ-টাদে দেখে থাকবে। কাকেরা দল বেঁধে চিলের পিছনে লাগলে সে বেচারা তখন কোথায় পালাবে বুঝে উঠতে পারেনা। যেদিকে যেতে যায়, কাকের দল সেদিকেই তাড়া করে তাকে ঠুকরে মারে। দলবদ্ধ শত্রু বড় নিষ্ঠুর।

অবশ্য চিল আবার যত উপরে উড়তে পারে, কাক কেন প্রায় কোন পাখিই ততটা পারেনা। উপর থেকে তাক করে কাকেদের ছানা-টানা শিকার করে খেয়েছে বলেই নিশ্চয় কাকেদের ওর উপর রাগ। তাও চিলের প্রতি আমার মনে মনে কেমন একটা পক্ষপাতিত্ব আছে। মনে আছে ছোটবেলায় দাদার সাথে ক্রিসমাসের ছুটিতে দুপুরবেলায় ছাদে শুয়ে রেডিওয় যাত্রা শুনতাম। শুনতে শুনতে শীতের রোদে চোখ জড়িয়ে আসত, যাত্রার ডায়ালগ-টায়ালগ আর কানে ঢুকতনা। আকাশের দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছুটি ফুরোবার কথা ভাবতে ভাবতে দূরের ঐ কালির ফোঁটার মত চিলেদের উড়তে দেখে মনে কেমন একধরণের মুক্তির ভাব জেগে উঠত।

chhobi3

আরেক শিকারি পাখি পেঁচার যে দিনের বেলায় কিরকম দুরবস্থা হয়, সে তোমরা সবাই জানো। রাত্তির বেলা ওরা আমাদের অঙ্ক ডিপার্টমেন্টের চারপাশে ঘোরাঘুরি করে, বাথরুমের পাইপের নীচে থেকে, বাগানের এঁদো কোণার গর্ত থেকে ছুঁচো-টুচো ধরে খায়। তাদেরই এক বেটা একবার বুঝি ভোরের আগে বাসায় ফিরতে পারেনি; সারাটাদিন আমাদের এক জিওমেট্রি স্যারের ঘরের মাথায় কড়িকাঠের উপর গোঁজ হয়ে বসে রইল – আমরা দলে-দলে দেখে এলাম। তারপর সন্ধে হতে উড়ে পালিয়ে গেল।

এবার বুঝতে পারছ, উপরে ঐ যে নানানরকম শব্দের কথা লিখেছিলাম তার উৎস কারা? কলকাতা শহরেও কিন্তু এসমস্ত পাখি আগে অনেক দেখা যেত, বিশেষ করে আমি যেখানে থাকতাম সেই সল্টলেকে। আমাদের ছোটবেলায় লেখাপড়ার পাঠ তত ছিলনা বলে পাড়া-বেপাড়ায় হেঁটে হেঁটে ঘুরে বেড়াতাম। আমার জেঠামশায়ের ছিল পাখি দেখার শখ – প্রকৃতি সংসদ বলে কলকাতায় যে পাখি দেখার দলটি রয়েছে, তার মেম্বার ছিলেন। সেই সূত্রে আর সেলিম আলির বই দেখে দেখে নেশা একটু আধটু আমাদেরও লেগেছিল; কিছু কিছু তত-দেখা-যায়না এমন পাখিও নিজেরাই চিনতে পারতাম। এখন অবশ্য তোমাদের পড়াশুনোর চাপ অনেক বেশি। অমন ঘুরে বেড়ানোও হয়ত আর বাচ্চা মেয়েদের পক্ষে নানা কারণে সম্ভব হয়না। তাছাড়া আমরা যত এগোচ্ছি, লোকসংখ্যা বাড়ছে, অফিসকাছারি-বাড়িঘরও বাড়ছে আর সবচেয়ে বেশি বাড়ছে বোধহয় মানুষের খেয়ালী-প্রয়োজন, খানিকটা যেন আমাদের ছোটবেলায় ঠাকুমা যাকে দুষ্টু-খিদে বলতেন। তাই গাছ-পাখিদের জায়গা কমে যাচ্ছে রৈ-রৈ করে, এসব তো তোমরা জানো।

এরই মধ্যে রিসার্চ ইন্সটিটিউটগুলোকে খানিকটা যেন পাখি আর ছোট ছোট জন্তুজানোয়ারের অভয়ারণ্য বানিয়ে রাখা হয়েছে। কোন কোন ইন্সটিটিউট, যেমন আই.আই.টি.গুলো, বিরাট জঙ্গুলে জমির উপর তৈরি বলে সেখানে বড় জন্তুও কিছু কিছু দেখা যায়। চেন্নাই আই.আই.টি.তে, কলকাতায় রাস্তায় যেমন কুকুর, তেমনি চিতল হরিণ ঘুরে বেড়ায় নির্ভয়ে। তারা আবার ক্যাম্পাসের বাইরেও ঘুরে আসে মাঝেমধ্যে। আমি এর আগে চেন্নাইয়ের যে ইন্সটিটিউটে ছিলাম কয়েক বছর, সেটা ছিল আই.আই.টি.র কাছেই। একেকদিন সকালে উঠে দেখতাম আমাদের হোস্টেলের উঁচু দেয়ালের ওপারে নোংরা ফেলার ঝোপের মাথায় কাদের আঁকাবাঁকা শিঙের ডগা দেখা যাচ্ছে। আই.আই.টি.তে কৃষ্ণসার হরিণও দেখা যায়। তাদের জন্য ইন্সটিটিউট থেকেই একটু আলাদা জায়গা করে দেওয়া হয়েছে; ওরা একটু লাজুক তো, তাই। বম্বে আই.আই.টি.তে তো চিতাবাঘ অব্দি দেখা গেছে। ওর একটা দিক ঘিরে সঞ্জয় গান্ধী ন্যাশনাল পার্ক থাকায় বুনো জন্তুরা মাঝেমাঝে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে। শেয়াল-খরগোশ-গোসাপ হামেশাই দেখা যায়।

আমাদের আই.এস.আই.তে জন্তু বলতে তেমন বড়সড় কিছু নেই। তবে বছরখানেক আগের কথা – তখনও আমি এই ঘরটা পাইনি, স্টাফ কোয়ার্টারের দিকটায় থাকতাম। একদিন সকালে রান্নাঘরের নীচের জঙ্গলটায় দেখি পিছনের দু’পায়ে ভর দিয়ে খাড়া হয়ে বুড়ো দার্শনিকের মত দাঁড়িয়ে আছে একটা নেউল। রোদে চকচক করছে, হাওয়ায় অল্প অল্প দুলছে তার শাদা লোম। পরে আবার তাকে দেখেছি তার ছেলে বা নাতির সাথে গুড়গুড় করে রাস্তা পার হতে। আর নেউলের জাতশত্রুর তো এখানে ছড়াছড়ি। এক আই.এস.আই.তেই হয়ত আট-দশরকমের সাপ আছে। মেলা কাঁকড়াবিছে আছে। পোকাও দেখা যায় নানারকম। এখানে তাদের কেউ তত পাত্তা দেয়না, মোটের উপর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান যাকে বলে।

আমার পুরনো রান্নাঘরের জালি দেওয়া জানলার পিছনটায় ছিল তিন-তিনটে ইঁদুরজাতীয় পরিবারের ভাগের বসতবাটি। সকালবেলায় ওটা ছিল এক কাঠবেড়ালি জুড়ির আড্ডাখানা; মাঝে মাঝে তারা আবার দলবল জুটিয়ে এনে পার্টি দিত। সারা দুপুর কিছু নেংটি ইঁদুর জাল বেয়ে ওঠানামা করত। আর সন্ধের দিকে ঐ একই জায়গায় একটা মস্ত বড় ধাড়ি ইঁদুর একদম একলা গুঁড়ি মেরে বসে থাকত। তার বুঝি আত্মীয়-স্বজন-টজনের বালাই নেই। এদের দেখে দেখে এমন অভ্যেস দাঁড়িয়ে গেছিল, যে কোন এক বেলা কাউকে একটা না দেখতে পেলে চিন্তা হত।

chhobi4 (2)

এছাড়াও প্রায় সব ইন্সটিটিউটেই ছাত্র বা কর্মচারীদের কারুর না কারুর এক-দু’টো পোষা কুকুর-বিড়াল থাকে। তাদের রোয়াবই আলাদা। এখানে যেমন পম্পিরাণী – লাঞ্চ-আওয়ারে ঘুমোতে ঘুমোতে হাতে গড়া রুটি খায়! তবে যতই অভয়ারণ্যের সাথে তুলনা করি, সবসময় যে ইন্সটিটিউট মানেই জন্তুরা খুব নির্ভয়ে থাকে তা নয়। বিশেষ করে অনেক জায়গাতেই – আই.এস.আই.তে না হলেও – সাপ দেখলেই মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয় বিষ-নির্বিষ বিচার না করেই। ওদের নিয়ে নানা ভয়, সংস্কার এইসব রয়েছে তো… কেউটে সাপ দেখেছ কি? ফণা তুললে ছত্রধারী রাজার মত দেখায়। একবার আমাদের ঐ চেন্নাইয়ের ইন্সটিটিউটেই দুপুরবেলা অফিস যেতে গিয়ে দেখি বাগানের এক কোণে একটা কেউটে সাপ বুকের উপর ভর দিয়ে উঁচু হয়ে রয়েছে, তার চারদিক ঘিরে ইন্সটিটিউটের মানুষজন। তাদেরও ঘিরে আবার ইন্সটিটিউটের পাজি বাঁদরের দল। মানুষেরা সব ফিসফিস-হাউমাউ মহা হট্টগোল লাগিয়ে দিয়েছে। বাঁদরেরা কিন্তু গোল হয়ে চুপ করে দেখছে শুধু। খানিক বাদে প্রাথমিক উত্তেজনা কমে এলে যখন মানুষেরা চক্রব্যূহের মত ঘিরে সাপটাকে পিটিয়ে মেরে ফেলল, তখন সারাক্ষণ কিচিরমিচির করা বাঁদরেরা কেমন যেন মাথা নামিয়ে লজ্জা পেয়ে আস্তে আস্তে চলে গেল।

অবশ্য ঐ শেষের কথাটা আমার বাড়াবাড়ি বা নেহাতই কল্পনা হতে পারে। সত্যিই বাগানের মালী, সিকিউরিটি গার্ড, অর্থাৎ যাদের কিনা সারাক্ষণ বাগানে ঘোরাফেরা করতে হয়, তাদের বিষাক্ত সাপের কামড় থেকে বাঁচবার ব্যবস্থা একটা তো রাখা দরকার বটেই। তবে কিনা ঐ জায়গার কাছেই একটা স্নেক পার্ক ছিল। সাপটাকে কোণঠাসা যদি করেই ফেলা হল, তারপরে ঐ স্নেক পার্কের লোককে খবর দিলেই তারা এসে ওটিকে নিয়ে চলে যেত – এটাই যা ভেবে দেখবার মত কথা।

একজন ফিজিক্স গবেষকের সাথে ওখানেই আলাপ হয়েছিল, তিনি আবার পাকা সাপুড়ে। আমার নিজের চোখে দেখা – আরেকদিনের গল্প। সন্ধেবেলা বাগানে আবার একটা সাপ দেখা গেছে। তা এই ভদ্রলোক তাড়াতাড়ি আমার কাছ থেকে একটা পাতলা শাড়ির প্যাকেট আর বাগান থেকে একটা ছোট্ট কাঠির মত কিছু নিয়ে কি এক কায়দায় টুক করে সাপটাকে তার ভিতর পুরে ফেললেন। সে বেচারি আর প্লাস্টিকের স্লিপারি গা বেয়ে উঠতে পারেনা। তখন তাকে আমাদেরই অফিসে নিয়ে এসে দশ মিনিট ধরে ইন্টারনেটে সার্চ করে তিনি মিলিয়ে দেখলেন সাপটার যা চেহারা, তাতে ওটার বিষ থাকতে পারে, নাকি না। মানে বোঝো! ধরার সময় সেসব না জেনেই ধরেছিলেন আর কি। তা শেষে দেখা গেল ওটা ঢোঁড়াসাপই বটে। তখন আবার তিনি চুপচাপ কাউকে কিছু না বলে তাকে ঐ বাগানেই ছেড়ে দিয়ে এলেন। তা’বলে তোমরা আবার শাড়ির প্যাকেট আর কাঠি নিয়ে বাগানে-বাগানে সাপ ধরতে যেওনা যেন। ওর মধ্যে বিস্তর শেখার ব্যাপার আছে। এই ব্যাঙ্গালোরের ক্যাম্পাসে আরেক অঙ্কশিক্ষক রয়েছেন যিনি গামবুট পরে ঐ মাঝখানের বড় জঙ্গলটায় ঢুকে সাপ, পোকা এইসবের ছবি তুলে বেড়ান। এর থেকে দেখা যাচ্ছে গবেষক মানেই যে বইয়ে মুখ গুঁজে চোখে চশমা এঁটে সারাক্ষণ পড়াশুনো করতে হয় তা নয়। (আরেক অঙ্কের গবেষককে চিনতাম যিনি আবার ফাটাফাটি হাতসাফাইয়ের খেলা দেখান…কিন্তু সে গল্প আরেকদিন হবে।)

তবে এমন মানুষ তুলনামূলকভাবে বিরলই বটে। অনেক ইন্সটিটিউটে – মায় কুকুর-বেড়ালদের অব্দি মেরেধরে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় – মূলত তারা ভৌ-ভৌ বা ম্যাঁও-ম্যাঁও করেছে এই দোষে। কুকুরে ভৌ-ভৌ করবেনা তো কি আসুন-ভাই-কেমন-আছেন বলে আপ্যায়ন করবে! তাছাড়া আমি এমন অনেক মানুষকে চিনি যাঁরা আসুন-ভাই বললে আমার খেঁকি কুকুরের ভৌ-এর চেয়ে ঢের বেশি আতঙ্ক উপস্থিত হয়। আসলে নানা কারণে আমাদের দৃঢ় ধারণা জন্মেছে যে, পৃথিবীটা বুঝি শুধু আমাদের জন্যেই তৈরি হয়েছে। আমরা যে এই গাছপালা-পশুপাখিদের জায়গাটা জবরদখল করে বসবাস করছি, সেটা হয় আমাদের স্মৃতি থেকে একদম গাপ্‌ হয়ে গেছে, নয় সেকথাটা এতই পুরনো হয়ে গেছে যে আজকের বাজারে তার আর কোন মূল্য নেই। অনেকে এ নিয়ে যুক্তি দিয়ে থাকেন – যে দেশে মানুষ খেতে পায়না, সে দেশে জন্তুজানোয়ার খেতে পেল কি পেলনা তাই নিয়ে মাথা ঘামানো কি উচিত? অথচ যাঁরা সত্যি খেতে পাননা, তাঁদের কাউকে কাউকে দেখেছি দিব্যি সপরিবারে ছেঁড়াফাটা চটের ঘরের ভিতরেই দুটো কুকুর তিনটে বিড়াল একটা টিয়াপাখি নিয়ে বসবাস করছেন। মনে হয় জীবে প্রেম জিনিসটা জীবনকে দেখবার একটা ধরণ। গরীব-বড়লোক, চোর-সাধু এসব কোন ব্যাপার না।

যা’হোক এক কথা থেকে অন্য কথায় এসে পড়লাম। বলছিলাম ঘরের মেয়ের দূরে এসে একা-একা মন কেমন করার কথা। রোজ অঙ্ক কষতে কষতে, বা কষার চেষ্টা করতে করতে একেকদিন নিজের অফিস-টেবিল-ব্ল্যাকবোর্ড-কম্পিউটার এমন বিষ হয়ে ওঠে যে মনে হয় আহা এটা মাসের গোড়া হলে এক্ষুনি টিকিট কেটে বাড়ি পালাতাম। সেসময় একটু ঠাঁইবদল করে বসতে হয়, তাতে আবার নতুন করে পড়ায় মন বসাতে সুবিধা হয়। তাই আমি মাঝে মাস দু’এক এখানকার লাইব্রেরিতে গিয়ে বসতাম। এই লাইব্রেরিটায় কেউ বড় একটা বসেনা, তাই কারুর সাথে কাজের ফাঁকে কথা বলার জো নেই; তাছাড়া তখন মনমেজাজ খিঁচড়ে ছিল, কথা তেমন বলতে ইচ্ছেও করতনা। কিন্তু যে টেবিলে বসতাম তার সামনের জানলাটার ওপারে একটা পেয়ারা গাছে ভ’রে ভ’রে ছাতারে, রেড-ভেন্টেড (লাল পেট) বুলবুলি আর বড় বসন্তবৌরী খেলা করত সারাদিন। আমি ফাঁক পেলে তাদের ছবি আঁকার চেষ্টা করতাম, কিম্বা এমনিই তাদের কাণ্ডকারখানা দেখতাম। একদিন গিয়ে দেখি গাছটা কে কেটে দিয়েছে। লাইব্রেরিতে আর এখন বসতে ইচ্ছে করেনা। এখন এইজন্য যদি আমি পড়ায় ফেল মারি, সেটা কি আমার দোষ হবে!

একবার এই উড়ুক্কু সঙ্গীদের সঙ্গের রস পেতে শুরু করলে পরে নিজের সাথেও আবার নতুন করে আলাপ হল ব’লে মনে হয়। এক বিদ্যাপীঠ যে অজান্তেই কত ভিন্ন রকম বিদ্যাশিক্ষা দেয় তার একটা অন্যরকম মজার আন্দাজও হয়। আগে যে পোষা বন্ধুত্ব আর খোলামেলা বন্ধুত্বের কথা বলছিলাম, তার বিচারে দেখতে গেলে আমিই যেন এখানে কেমন খাঁচাবন্দী। গরাদের ফাঁকে হাত ঢুকিয়ে এদের একটু ছোঁয়ার চেষ্টা করছি।

দিনকতক আগে ঝুলিতে এইজাতীয় একটা নতুন গল্প বাড়ল। আই.এস.আই. ব্যাঙ্গালোর ক্যাম্পাসের বাইরে বেশ কিছু ছোট ছোট জঙ্গল এখনও রয়ে গেছে। বর্ষা পড়লে তাদের বেশ ঘন চেহারা হয়, যদিও মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাবার রাস্তা থাকে। আবার শীত পড়লে তখন প্রায় খোলা মাঠের মত দেখায়। সেই জঙ্গলেও বিকেলের দিকে হাঁটতে গেলে ছোটখাটো জন্তু দেখা যায় – মস্ত লেজওয়ালা কাঠবিড়ালি, বড় বড় কানওয়ালা খরগোশ। দিন দু’এক আগে আমার এক বন্ধু আর আমি মিলে ঐ জঙ্গলে হাঁটতে হাঁটতে – ততক্ষণে সূর্য প্রায় ডুবে গেছে, চারদিক আস্তে আস্তে অন্ধকার হয়ে আসছে – হঠাৎ একটা বড় ঝোপের পাশ দিয়ে যেতে গিয়ে তারস্বরে বাচ্চা ছেলের গলার কান্না শুনে থমকে দাঁড়িয়ে গেলাম। আর যেই না থামা, একটা মাঝারি মাপের ঝুপসি গাছের পিছন থেকে পরপর তিনখানা জাম্বো সাইজের বর্ণালী ময়ূর আমাদের মাথার একটুখানি উপর দিয়ে উড়ে গিয়ে দূরে বাবলাঝাড়ের ভিতর গা ঢাকা দিল। জাতীয় পাখির ডাক ঐরকম তীব্র আর্তনাদের মত শোনায়। আমরা তো হাঁ!

chhobi5

অথচ ঐ একই জঙ্গলে যদি এমন মতলব পাকিয়ে যাই যে আজ একটা জন্তু দেখতেই হবে, এস্পার নয় ওস্পার, তাহলে আর কিছুতেই তাদের দেখা পাওয়া যায়না। সত্যি খেয়াল করে দেখেছি, সাধারণত কোন প্রস্তুতি বা আশা-প্রত্যাশা না নিয়ে গেলে তবেই এদের দেখা যায়। আর যদি নাও বা দেখা গেল, ঐ যে জঙ্গলের মধ্যে নানান খুটখুট ঢিপঢাপ শব্দ কিম্বা শুধুই নিশ্ছিদ্র নীরবতা, আর তারও চেয়ে বেশি জোরালো এই অনুভব যে আমরা ছাড়াও আরও কারা সব যেন আছে আমাদেরই চারপাশে। যদি একটু মন স্থির করে বার বার যাই তাদের দোরগোড়ায়, তারাও তখন হয়ত আমায় বন্ধু ভেবে কাছে আসতে শুরু করবে, এই চিন্তাটাই একলা থাকার, কাজের চাপে পিষ্টে যাওয়ার বৃথা ভয়গুলোকে ভুলিয়ে দেওয়ার পক্ষে অনেকখানি।

তোমরাও যদি হঠাৎ একদিন আলপটকা হাতে সময় পাও – যদি কোন কারণে এক পিরিয়ড আগে স্কুল ছুটি হয়ে যায়, বা গানের টিউশনির মাস্টারমশাই যদি গলা খারাপ বলে একদিন ক্লাস না নেন – দেখো তো তবে একা কিম্বা দল বেঁধে বেরিয়ে পড়ে যে যে পাখিগুলোর কথা এখানে বললাম, তাদের কাউকে কাউকে তোমাদের চারপাশে কোথাও দেখতে পাও, চিনতে পার কিনা? আর যদি এদের বাদ দিয়ে একদম নতুন কোন উড়ুক্কু বন্ধুর সাথে আলাপ হয়, যার ডানার রঙ বা কণ্ঠের চিড়িক্‌- চিড়িক্‌ তোমার গত সাতদিনের কানমলা, অঙ্কভুল, বেস্টফ্রেন্ডের সাথে আড়ি – এই সমস্তকিছুর নুনজল মুছিয়ে দিতে পেরেছে, তাহলে আমায় জানাতে ভুলোনা কিন্তু। কারণ একে তো অঙ্ক-বিজ্ঞানের গবেষণার পাশাপাশি বন্ধুত্বের গবেষণাটাও যে ভয়ানক দরকার – এটা বুঝতে পেরেছ মানে আদ্ধেক কেল্লাফতে ঐখানেই হয়ে গেছে। তার উপর যদি তোমাদেরও একদিন শখ জাগে বাড়ির বাইরে গিয়ে কঠিন কঠিন অঙ্ক কষবে, বা অন্য কোন বিষয় নিয়ে পড়াশুনো করবে বা চাকরি করবে, এটুকু অন্তত নিজেকে চোখ বুজে মনে করিয়ে পারবে – সে পথ কঠিন হোক বা সহজ চিন্তার কোন কারণ নেই। যেখানেই যাচ্ছ, অন্তত একদল উড়ুক্কু বিদ্যাসঙ্গী তুমি চাইলেই তোমার পড়াশুনো-কাজকর্মের এবড়োখেবড়ো গর্তগুলোর উপর দিয়ে তোমায় দিব্যি হুশ্‌ করে উড়িয়ে নিয়ে চলে যাবে।।

chhobi6

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s