The Touch of Love, the Touch of Death and a New Dance in Tamil Nadu


GroundXero. July 2018

A new choreography by a Chennai-based dancer speaks of caste-oppression and honour killing in Tamil Nadu, addressing the contemporary socio-political issue in a straightforward manner. How severe is the truth underlying the content of this work? 

Teenda Teenda

In travel advertisements, the image of Indian culture is often represented by a smiling Bharatanatyam dancer, to be immediately associated with Tamil Nadu. Even otherwise, for those who do not look at dance as an exotic entertainment practice of dressed-up painted women, or those who are actually interested in the history and science of dance in India, Tamil Nadu – in particular Chennai – has been an important space to explore. Not just as a hub of Bharatanatyam and other South Indian classical and folk dance forms, but as a city that hosted some of the pioneers of Indian contemporary dance, and has been hosting practitioners and researchers who have influenced Indian contemporary dance in definitive and progressive-liberal ways.

Chennai-based contemporary dancer Akila’s new choreographic work Teenda Teenda (தீண்டத் தீண்ட: As We Touch… or As We Get Close By…) falls in the same legacy. It is Akila’s first full-length choreography, though she has created smaller works earlier in her 12 years long training and engagement with contemporary dance and various other forms of movement and music for many more years. The work is a straightforward statement in dance, critiquing caste dominance and the many facets of its atrocities with the focus on inter-caste honour killing that plagues Tamil Nadu till date. Minimal in its composition and choreography, Teenda Teenda is an almost entirely non-verbal play between two bodies, performed by Akila and contemporary dancer/movement-practitioner Chandiran, “finding a balance between abstraction and narration, not reflecting the content through the body, but within the body.” – explains the Tamilian choreographer. The movements in this work stem from wanting to identify the body-language of social hierarchy – violence, pain, arrogance, submission, dissent and such like, exploring “how the caste-violence affects the personal space of an individual who attempt to resist with an aspiration of equality” in particular.

Continue reading


A Sneak Peek into the History of Left-Leaning Socio-Political Content in Indian Urban Contemporary Dance


Manalmagudi Art Magazine, Tamilnadu, 2018

[Note: Contemporary dance’ in India does not have an unanimously agreed-upon formal definition; the notion of contemporaneity remains open to individual interpretation and focus of work. Here, this phrase will be used loosely – ranging from modernist explorations to postmodern experiments that involved a part of the contemporary society as a source of content as well as a part of the same (though not necessarily the same part) as the target audience.]


Political analyst Laurence W. Britt listed certain characteristics of fascism which are to be increasingly found in the administrative process of several ‘developed’ or ‘developing’ nations including ours. Among them, along with propagation of religious fanaticism, sexism, corporate powers, corruption etc., lies a significant point: ‘disdain for intellectuals and the arts’ (and hence freedom of speech). It is not for nothing that Indian contemporary dancers – and artists in general – have been largely inclined towards left-liberalism. The current government came to power with a bagful of promises for the intellectuals in the fields of academia and culture. The promises naturally turned out to be hoaxes in the subsequent budgets, thus cutting the finance down in these fields. Among them, urban contemporary dance has in any case never been particularly favoured by Indian economy; for example, the governmental monthly salary grant, to this day, for large-scale dance-troupes is the often-irregular frugal sum of 6000/- for adult dancers – a sum that barely increased in last couple of decades and is far from being adequate for survival. Unlike the West, where urban contemporary dancers are aided with governmental subsidies and promotions (though they come with their own challenges), contemporary dance has only barely been recognized by the Indian government, that too just a few years back, without any real clue as to the past, present or future of its ‘forms’, or as a whole, its ‘movement’.

So unsurprisingly, in this general atmosphere of doom, contemporary dance is facing one of its worst socio-economic lows in history. Grants are drying up, festivals are on the verge of shutting down, or desperately wooing foreign cultural embassies or the handful of extremely selective private (thus often politically problematic) sources of money. A contemporary dance academy, for advancement of dance-pedagogy and research, is a mere dream today due to 1) the general lack of funding, 2) the endless bureaucracy of the funders – public and private alike, and 3) a lack of takers of contemporary dance among the major section of the society. Festivals and dance academies, or other smaller pedagogical centers have so far been the principal sources of earning for dancers and choreographers. With them waning, these artists will be struggling harder and harder to keep up their survival as well as the intensity of their research in order to achieve their artistic fulfillment. Will the number of upcoming contemporary choreographers keep decreasing? Will urban Indian contemporary dance, which is already mostly taken up by the upper/middle-class with a fairly sustainable socio-economic support system behind them, keep shrinking – being limited to this particular socio-economic class of people as artists and audience? Or will there be alternative initiatives as, what Jodi Dean calls, a “response to fragmentation, hierarchy, isolation, and oppression”, “a mode of address, figure of belonging, and container for shared expectations [that] can provide us with a view of political relation necessary for the present” – not only as artists but also as political people living in the present?[1] Initiatives with more inclusive attempts towards building a collective of increasing strength of contemporary dancers/choreographers with an open collaborative approach towards artists from other disciplines as well as ‘non-artists’. A collective so large, inclusive, vocal and open to exchange that it will establish an unignorable role in the larger political scenario of this country. Moreover, does the society need such a collective? I will not be able to answer these questions directly in this article; in fact, many more questions will remain unanswered in the course of this discussion. But these are the questions that will keep defining my thoughts.

Continue reading

যৌন শ্রমের মর্যাদার সন্ধানে ‘মে ডে’ মিছিল

গ্রাউন্ডজিরো, মে, ২০১৮‌

গত ৩০শে এপ্রিল প্রায় ৪০০ জন যৌনকর্মী রাস্তায় নামলেন ১লা মে-র আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে মিছিল আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সূচি নিয়ে। সঙ্গে রইলেন ‘দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি’, ‘আমরা পদাতিক’, ‘আনন্দম্‌’ এবং আরও অনেকে। প্রান্তিক মানুষের অধিকার – বিশেষত কলকাতার যৌনকর্মীদের অধিকার নিয়ে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছে এনজিও ‘দুর্বার’, আর তার ছায়ায় ক্রমশ গড়ে উঠেছে এলজিবিটি অধিকার নিয়ে ‘আনন্দম্‌’ এবং যৌনকর্মীদের সন্তানদের অধিকার নিয়ে ‘আমরা পদাতিক’। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল ব্যানার, প্ল্যাকার্ড আর জনে-জনে বিলি করার জন্য প্যামফ্লেট; অনেকের পরনে হলুদ টি-শার্টে ঘোষিত যৌনকর্মীদের শ্রমের অধিকারের স্লোগান – নারী-আন্দোলনে এই অধিকারের গুরুত্বের কথা। দুর্গাচরণ মিত্র স্ট্রীটের শীতলা মন্দির ঘেঁষা জমায়েত থেকে মিছিল বেরোল বিকেল ৪টেয়, চলল প্রায় ঘণ্টা দেড়েক, কোম্পানি বাগান জংশন হয়ে শেষে ফের শীতলা মন্দির। তারপর আলাপ-আলোচনা হল শুধু যৌনকর্মীদের সামাজিক দুর্নাম ও তাঁদের উপর অসাম্যের বিরুদ্ধেই নয়, তাঁদের কাজকে শ্রম হিসেবে চিহ্নিত করার দাবিতে – অর্থাৎ একজন শ্রমিক আইনত যা যা সরকারি সুযোগসুবিধা পেতে পারেন – তার দাবিতে, ‘ইম্মরাল ট্র্যাফিকিং প্রিভেনশন অ্যাক্ট’-এর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সংশোধনের দাবিতেও।

মিছিল-পরবর্তী অনুষ্ঠানে ‘দুর্বার’ ছাড়াও ‘টিইউসিসি’, ‘শ্রমজীবী স্বীকৃতি মঞ্চ’, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল এনজিও ফোরাম’, ‘দশ থেকে দশ হাজার’, ‘কর্মজীবী মহিলা পরিষদ’ প্রভৃতি নানান এনজিও, গোষ্ঠী, ট্রেড ইউনিয়নের সমাবেশে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কথা উঠে এল। আশাবাদী বক্তব্য শোনা গেল কীভাবে এই প্রতিবাদ যৌনকর্মীদের আইনি এবং সামাজিক স্বাচ্ছন্দ্য-সম্মানের পাশাপাশি প্রাত্যহিক নিরাপত্তা এনে দিতে পারে, স্থানীয় গুন্ডা-দালাল ও যৌনব্যবসার সবচাইতে লাভজনক প্রান্তে অবস্থিত যাঁরা লাভের গুড় খেয়ে যান, তাঁদের হাত থেকে বাঁচবার পথও খুঁজে দিতে পারে। ‘শ্রমজীবী স্বীকৃতি মঞ্চ’-এর কনভেনার রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জানালেন বিনোদিনী শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে একত্রিত ভাবে তাঁরা বিড়ি-শ্রমিক, জরি-শ্রমিক, নির্মাণ-শ্রমিকদের মতো সামাজিক ভাবে স্বীকৃত অসংগঠিত শ্রমিকদের পাশাপাশি যৌনকর্মীদেরও সংগঠিত শ্রমিকের মর্যাদা দেবার দাবিতে কাজ চালিয়ে গেছেন। মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন এমন কিছু মানুষও, যাঁরা কোনো গোষ্ঠীর সদস্য নন – এসেছিলেন স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে প্রতিবাদে গলা মেলাতে। অনুষ্ঠান শেষ হল কবিতায়, ‘দুর্বার’-এর সাংস্কৃতিক শাখা ‘কোমল গান্ধার’-এর নাচে, ‘দুর্বার ব্যান্ড’-এর জমাটি গানে।

১৯৯৭ সাল থেকে শ্রমের অধিকারের দাবিতে কলকাতার যৌনকর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন মিছিল ও পিটিশনের মাধ্যমে – নানান আইনি পথে। ‘গতর খাটিয়ে খাই, শ্রমিকের অধিকার চাই’, ‘যৌনকর্মীর অধিকার, নারী-আন্দোলনের হাতিয়ার’ – পোস্টারে লিখেছেন তাঁরা; বারবার পথে নেমেছেন – যেমন ২০০৮ সালে কয়েকশ’ যৌনকর্মীর মিছিল কলকাতা শহরকে চমকে দিয়েছিল। কিন্তু এই মিছিলের লক্ষ্য কি শুধুই ‘দৃশ্য’ হয়ে ওঠা? অথবা, আইনি ভাবে শ্রমের অধিকার পেলেই কি তাঁদের সব সমস্যার সমাধান ঘটে যাবে?

Continue reading

নাটক, যা পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখার কথা বলে


গ্রাউন্ডজিরো, এপ্রিল, ২০১৮

‘স্বভাব’ দলের নতুন নাটক ‘রাখে নদী মারে কে’-র প্রথম শো হয়ে গেল গত ২২-শে এপ্রিল, বসুন্ধরা দিবসে, সায়েন্স সিটির ন্যানোল্যাব পরিচালিত এক অনুষ্ঠানে। আয়োজকরা ছাড়াও ছিলেন সত্তর-আশিজন বিভিন্ন স্কুলের নানা ক্লাসের ছাত্রছাত্রী আর তাঁদের মা-বাবারা। দর্শকরা গল্পের কতখানি ভিতরে ঢুকে যেতে পারছিলেন, তা বোঝা গেল শুধু অভিনয়ের তালে তাল মিলিয়ে হাসি, গানের সাথে মাথা দোলানো, বা শেষের হাততালি থেকেই নয়; আলাদা ভাবে অনেকেই এসে জানালেন তাঁদের ভাল লাগার কথা। ব্যক্তিগত পরিসরে আলোচনা হল, কীভাবে জ্ঞান দেবার ঢঙে নয়, কথকতার ঢঙে এই নাটক নদীর জলের রাজনীতি ও অর্থনীতি, ব্যবহার ও অপব্যবহার নিয়ে কথা বলছে, পরিবেশ ও সমাজের উন্নয়নের নামে ‘প্ল্যানিং’-এর খাঁটি-গলদ বিচার নিয়ে তথ্য তুলে ধরছে – এমন তথ্য, যা স্কুলের পরিবেশ-বিজ্ঞান বইতে পাওয়া যায় না, অথচ যা আমাদের দেশজ জ্ঞানভাণ্ডারের ফসল, সত্যিকারের মানবতাবাদী ব্যবহারিক বিজ্ঞান।

নাটকের গল্প এক নদীকে নিয়ে। নদীর নাম শিবনাথ। বোতলবন্দী করে এ দেশের নদীর জলকে ‘পানীয়’ বানাবার ইতিহাসে একদম গোড়ার দিকে সত্যিই নাম পাওয়া যায় এই নদীটির। তো সেই নদীকে পাইপলাইনে বেঁধে, তার জলকে সব মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার নামে ব্যবসার কুচক্রী পরিকল্পনা করা হয় এই নাটকে। কীভাবে ঠেকানো যাবে এই ‘হাই-টেকনিক স্কীম’? কারা ঠেকাবে? আদৌ ঠেকানো যাবে কী? যায় কখনও? পৃথিবীর কোণে-কোণে নির্লজ্জ থাবা বাড়িয়ে যারা পরিবেশের সর্বনাশ করে, আমজনতার-চাষির-শ্রমিকের বাঁচা-মরা-চাওয়া-পাওয়া নিয়ে রাজনীতি করে, আর্থিক-যান্ত্রিক-বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের কুমীরছানা দেখিয়ে নিজেদের পেট-পকেট ভারি করে, তেমনই এক ঠাকুরমার ঝুলির ধূর্ত ভুঁড়ো শিয়ালের মত দুর্দান্ত এই গল্পের ‘ভিলেন’।

Continue reading

Project Stereotype II: A ‘Performance Art’ Stereotype?


Published in Groundxero, April, 2018

Daminee Benny Basu

The Project

How does a moderately sensitive-progressive person feel if on an uneventful evening, walking along a footpath in a canonical Indian city, she encounters a figure frantically running across her path? Startled? If it then registers that the running figure is of a woman in a burqa, then astonishment, excitement and premonition? By the time the viewer probably notices that the runner’s legs are in fact bare under her chador, she might have gone too far away for the cause of her distress to be investigated. A panting, fleeing, distraught image of a burqa-clad woman: one of the most acceptable visual stereotypes representing violence-generated distress for the sensitive-progressive mind, which now keeps wondering: Riot? Rape? Domestic abuse? Mass-massacre? Madness? An about-to-be missed train?

Daminee Benny Basu’s performance work Project Stereotype II – premiered on March 5th at the brand-new dance/movement-oriented festival in Kolkata curated by the newly-formed contemporary art hub ‘Pickle Factory’ – is about this run. Maybe not ‘about’, rather the performance is the run – suggesting narratives and realities around itself, solely through this single action/movement strategy. But which of the several suggested realities do we hold on to? The source of confusion seems to exist at a breach of clarity between the Performer and the Performed.

Project Stereotype II is a bold work created by a strong performer that raises critique against patriarchal oppression as well as discussions on performing forms; it experiments how familiar actions and icons can be pushed ever so slightly to create immense ‘discomfort’ by provoking the viewers a little, measuring “the impact of unpreparedness” – as an audience member put it. It seems, in raising so many intense, experimental points, the ‘project’ slightly loses its thread, despite its strict and effective adherence to simplicity of physical form: a principal movement strategy of continuous running around a bare space, a single musical loop, a body – Benny’s own, a simple suggestive costume: the incomplete burqa, and minimalistic shadowy lighting, as if to indicate the entrails of an unhelpful habitat.

Continue reading

Animal Stories and The Readers’ Dilemma


(Ekalavya, 2017; printed in Hindi: translated by Bharat Tripathi, Ekalavya Team)

Are you old enough to convincingly start a story with, “You know? When I was a child, I used to…”?

Surprisingly, when I was indeed a child, too many of my stories began with “You know? When I will grow up, I will…”.

Those days, it seemed, all the stories worth telling would take place only in the future. Everything seemed too limited in the present. Too many rules, routines, prohibitions, too less power to do anything at all.

Maybe someday each of us would reach a point, when it would seem that all the stories worth telling took place only in the past. But then, there is not much difference between these, is there? Both ways, the stories travel in time – people to people, ghost to ghost, life to life. Sometimes it even feels as if the present is a slice of mirror which has two sides – past and future. Between the reflections, the undone gets done, the said gets unsaid, those which are unseen and unheard becomes so real that one can touch it. The real stories transform into dreams, or vanish into nothing, continuously.

Talking about stories, dreams and realities constantly interchanging, I recently reread a story of an ugly old tomcat, who dreamed of marrying a little swallow. And guess what! To everybody’s surprise, disgust and fear (for the swallow, of course) the little bird actually liked him – although she teased the hell out of him pointing at his age and his ugliness! They hung around over open fields, in the cool midspring shadows of the pond-side trees, without giving a damn about how the ducks sneered, the hens gossiped, the cows disapproved, and the cockatoo got absolutely enraged. After all, nobody could blame these animals for judging the tomcat, since cats were evil villains – as everybody knew without a shred of doubt, from the history taught to them by the all-knowing cockatoo, who always had the last say in all matters of that little farm. In spite of such severe disapprovals, the tomcat’s dream came to reality. An untruth suddenly became a truth – another truth.

This is not my story. Well of course it is not mine, I’m neither a tomcat, nor a swallow – but what I mean is that it’s not even written by me. Although, you know, when I read it as a child, I dreamed of it many times – I loved it so much! This was a story told by a Brazilian man called Jorge Leal Amado de Faria. Just in case you are giggling, let me remind you that we too have had famous men among us named Avul Pakir Jainulabdeen Abdul Kalam and Hardanahalli Doddegowda Deve Gowda! Nevertheless, boy, what a story it was! What a beautiful perspective of a little South American farm – possible just like the one Jorge himself was born in. I won’t spoil the story for you by telling you the ending, in case you feel like reading it. But, I’m curious; what do you think happened at the end? Did the tomcat’s version of reality remain a reality? Or did it transform back to a dream again? Did the cockatoo’s version of the history win over the tomcat’s version of the dream? Who was good? Who was evil? Who was telling the truth and who was lying?

Continue reading

শ্রমজীবী শ্রেণির উপর নিপীড়ন এবং শ্রমিক সংগঠনগুলির লক্ষ্য (ফোকাস : তামিলনাড়ু)

(অনুবাদ লেখা)

লেখকঃ চন্দ্রিকা রাধাকৃষ্ণণ

(তামিলনাড়ুতে অবস্থিত টি.এন.লেবার বা ‘তোলিলালার কুডম’ ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য)


(আয়নানগর, বইমেলা, জানুয়ারি ২০১৮)

মূল লেখা (ইংরিজি) – আয়নানগর অনলাইন মে ২০১৬আয়নানগর অনলাইন মে ২০১৭

অনুবাদকের কথা

এই লেখা ছাপা হবার মাসখানেক আগে, ডিসেম্বরের শেষে, বিজেপি সরকার ঝাড়খণ্ডে মজদুর সংগঠন সমিতি (এমএসএস) নামক রেজিস্টার্ড সংগঠনটিকে অলীক অজুহাতে বেআইনি ঘোষণা করে। সংগঠনটির ব্যাপক জনপ্রিয়তাই বর্তমান সরকারের গভীর নিরাপত্তাহীনতায় ইন্ধন জুগিয়েছে, সে বিষয়ে সন্দেহের খুব একটা অবকাশ থাকে না। অথচ একটি সম্পূর্ণ আইনি ভাবে রেজিস্টার্ড এই সংগঠনের উপর এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নিয়ে ট্রেড ইউনিয়ন জগতে খুব বেশি আন্দোলন বা প্রতিবাদ শোনা যায়নি এখনও। চন্দ্রিকা রাধাকৃষ্ণণদের টি.এন. লেবার ব্লগে এ নিয়ে সম্প্রতি একটি বিস্তারিত লেখা ছাপা হয়, যেখানে শ্রমিক সংগঠনের সরকারি অবদমন নিয়ে প্রত্যক্ষ উৎকণ্ঠার পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠনগুলির কর্মপদ্ধতি, পারস্পরিক সম্পর্ক ইত্যাদি নিয়ে এক গভীর পরোক্ষ উৎকণ্ঠাও অনুভব করা যায়। চন্দ্রিকার বর্তমান লেখাটিও সেই একই উৎকণ্ঠার এক গঠনমূলক ফসল, যা আয়নানগরে অনলাইন প্রকাশিত হচ্ছে ধারাবাহিক ভাবে, ইংরিজিতে। দুটি ইতিমধ্যেই প্রকাশিত লেখার বাংলা অনুবাদ ছাপা হল এখানে।


২০১১ সালে রাজস্থানের টাপুকেরায় দা হোন্ডা মোটরসাইকেল অ্যান্ড স্কুটারস ইন্ডিয়া ফ্যাক্টরি (এইচ.এম.এস.আই.) চালু হয়। এতে মূলত আই.টি.আই. প্রশিক্ষণ পাওয়া ৩৬০০ জন কর্মীকে কাজে নেওয়া হয়। দিনে ৫০০০টি গাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যে তৈরি এই ফ্যাক্টরিতে এঁদের মধ্যে মোটে ৪৬৬ জন শ্রমিককে স্থায়ী চাকরি দেওয়া হয়।[১] বাকি তিন হাজারেরও বেশি কর্মী অস্থায়ী চুক্তি-শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে থাকেন। উন্নত স্বয়ংচালিত যন্ত্র বা অটোমেশনের ব্যবহার সত্ত্বেও দিনে ৫০০০টি গাড়ি তৈরির ঝলমলে হিসেবের পিছনে শ্রমিকদের কাজের অতিরিক্ত চাপ এবং বাধ্যতামূলক ওভারটাইমের ইতিহাস লুকিয়ে ছিল। কনট্র্যাক্ট-শ্রমিকদের মাইনে শুরু হচ্ছিল মোটে ১০০০০ টাকা থেকে; যাঁদের চাকরি পাকা ছিল তাঁরাও ২২০০০ টাকার বেশি মাইনে পাচ্ছিলেন না। সমস্ত স্থায়ী কর্মীরা প্রথম তিন বছর প্রশিক্ষণের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন; তারপর আরও ছ’মাস তাঁদের প্রোবেশনে রাখা হয়। সেসময় তাঁদের অবমাননাকর প্রাত্যহিক অবস্থার ভিতরে থেকে কাজ করতে হয়েছিল। শুধুমাত্র চাকরি পাকা হবার ভরসায় তাঁরা মানিয়ে চলতে বাধ্য হন। অবশ্য প্রোবেশনের শেষে পাকা চাকরিও তাঁদের ‘শপ-ফ্লোরে’ সুপারভাইজারদের দুর্ব্যবহার, দৈনন্দিন কাজের শারীরিক ও মানসিক চাপ এবং নিরাপত্তার অভাব থেকে মুক্ত করতে পারেনি।

২০১৫ সালে এই কোম্পানির স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিকরা মিলে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন এবং মাইনে বাড়াবার, ও সাধারণভাবে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতির দাবিতে মালিকপক্ষের সাথে কথা শুরু করার চেষ্টা করতে থাকেন।[২] সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন জমা পড়ার কয়েক মাসের মধ্যে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারি সমেত চারজন কর্মীর চাকরি চলে যায় এবং আরও পাঁচজনকে সাসপেন্ড করা হয়। শ্রমিক এবং মালিকপক্ষের এই দ্বন্দ্ব চূড়ান্ত অবস্থায় পৌঁছয়, যখন একজন অস্থায়ী কর্মী পরপর তিন দিন টানা ওভারটাইম করার পর চার দিনের দিন আর ওভারটাইম করতে অস্বীকার করেন, এবং এই কারণে তাঁকে একজন সুপারভাইজারের নিপীড়নের সম্মুখীন হতে হয়। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ২০০০ জন স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিক স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে একটি অবস্থান করেন। তাঁদের যে শুধু পুলিশ দিয়ে মার খাইয়ে তুলে দেওয়া হয় তা-ই নয়, সরাসরি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। বহু স্থায়ী শ্রমিকের উপর উল্টে পুলিশকে আক্রমণ করার নকল চার্জশিট দাখিল করা হয়।

শ্রম এবং পুঁজির সাম্প্রতিক ইতিহাসে হোন্ডা মালিকপক্ষের এই অত্যাচার কোনো অভিনব ঘটনা নয়। বেশ কয়েক বছর আগে চেন্নাইয়ের কাছে শ্রীপেরাম্বুদুর শিল্পাঞ্চলে হুন্ডাই কোম্পানি, যা ছিল ভারতে একদম প্রথমদিককার একটি অটোমোবাইল এম.এন.সি., এই একই ঘটনা ঘটিয়েছিল। ১৯৯৬-এ তৈরি এই ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকরা সংগঠন তৈরির অধিকার নিয়ে ২০০৭ সাল থেকে লড়াই চালিয়ে আসছিলেন। হোন্ডার মতোই, রাষ্ট্র এবং মালিকপক্ষ হাত মিলিয়ে সংগঠনের নেতাদের চাকরি থেকে ছাঁটাই এবং দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ট্রান্সফার সমেত নানান শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিপীড়ন পদ্ধতি জারি করে। মালিকদের তরফ থেকে একটি শ্রমিক সংগঠনও খাড়া করা হয়, যাঁরা মালিকের হয়ে কথাবার্তা চালাবার কাজ করেন। কিন্তু কোনোভাবেই কোনো প্রচলিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে – যেমন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে – শ্রমিকদের নিজেদের গড়ে তোলা সংগঠনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।

ভারতীয় বাজারের উদারনৈতিক অর্থনীতি যত বৃদ্ধি পেয়েছে, ‘ম্যানুফ্যাকচার বেস’ হিসেবে ভারতের পরিচয় পৃথিবী জুড়ে যত ছড়িয়ে গেছে, তামিলনাড়ু (হুন্ডাই, প্রাইকল, ফক্সকন), রাজস্থান (শ্রীরাম, হোন্ডা টাপুকেরা), হরিয়ানা (মারুতি, হোন্ডা), গুজরাট (টাটা) সমেত গোটা দেশের শ্রমিকদের অবস্থা ততই খারাপ হয়েছে, তাঁদের অধিকার ততই খর্ব হয়েছে। কম মজুরি, চুক্তি-শ্রমের আধিক্য, যথেচ্ছ ‘হায়ার অ্যান্ড ফায়ার’ পলিসি, কাজের মাত্রাতিরিক্ত চাপ – শ্রমিকদের শপ ফ্লোরের দৈনন্দিন জীবন-অভিজ্ঞতা বলতে এইসবই। সংগঠিত ভাবে তাঁদের অধিকারের দাবি রাখার চেষ্টা করা ছাড়া এই অবস্থার প্রতিরোধের আর কোনো উপায় নেই।

ভারতীয় সংবিধানের আরটিক্ল্‌ ১৯ অনুযায়ী সংগঠন শ্রমিকদের মূলগত অধিকার। ট্রেড ইউনিয়ন অ্যাক্ট এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিসপিউটস অ্যাক্ট শ্রমিকদের হাতে সংগঠন তৈরি করার এবং নানান অন্যায্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অধিকার তুলে দেয়। অথচ এইসব আইন থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় শ্রমিকরা ক্রমাগতই রাষ্ট্র এবং মালিকপক্ষের তরফ থেকে নানা অধিকারের বিরুদ্ধে বাধার সম্মুখীন হয়ে চলেছেন। ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবি’ এবং কর্পোরেটের কাছে বিকিয়ে যাওয়া সরকারি দপ্তর এবং মিডিয়া সর্বক্ষণ শ্রমিক সংগঠনগুলিকে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিপন্থী বলে প্রচার করে চলেছে। আমরা উদাহরণসমেত দেখব, কীভাবে এই আইনগুলি থাকা সত্ত্বেও পুঁজি বিভিন্ন আইনি ও বেআইনি পথে শ্রমিকদের শোষণ করে চলে।

শোষণের এই নতুন পথগুলি শ্রমিক সংগঠনগুলির সামনে নিত্যনতুন ‘চ্যালেঞ্জ’ ছুঁড়ে দিচ্ছে। নতুন পথ সন্ধানের পাশাপাশি ইউনিয়নগুলিকে আবার একই মারুতি, প্রাইকল, ব্যাঙ্গালোরের বস্ত্রশিল্প-শ্রমিকদের মতো জোরদার শ্রমিক আন্দোলন নির্মাণের কাজও করে যেতে হচ্ছে, হবেও।

Continue reading

Visiting Mutthukkannammal, Revisiting Sadhir


(Durbar Prakashani, December 2017)

বাংলা অনুবাদ

  •  The ‘Devadasi Debate’  


A step forward in one direction is sometimes a significant step back in another. The so-called ascension of ‘Sadhir’: the precolonial ‘temple dance’ in Tamilnadu, to modern Bharatanatyam has been seen as a certain empowerment of Indian women and a campaign to denote the victory of certain Indian cultures. The 1947 Devadasi Abolition Act (Prevention of Dedication) and the consequent redecoration of Sadhir into Bharatanatyam was conceived as constructive means of uncovering and banishing an exploitative practice on women. The goal behind enacting this law was to put a stop to the transformation of innumerable ‘Devaradiyar’s: women pledged in the service of god in the temples of Tamilnadu, to ‘Thevadiya’s: sex-workers.

But to some, this reform came as a forced transfiguration of the art form and its performing body. During the process of redecoration and grammarization based on various Sanskrit texts, the form submitted to high-brow morals and religious sanctification on one hand. On the other hand, by all practical means, it ironically retained the politic of objectification of the dancing body (e.g. by idealizing the now-smiling-now-pining ‘Nayika’); the same objectification, which was referred as problematic by the reformists largely belonging to the urban upper class and caste. As a consequence, the reform led the performing body lose its purposeful and well-practiced act of spontaneity and the strength of its unabashed language exercising powerfully raw emotions and subversion of content.

This moment of redefinition of Sadhir also marked the beginning of a shift of this particular family of dance from a position in close contact with other public performance-forms in rural Tamilnadu – increasingly bringing it within the urban Brahmanical fold that it would later come to be synonymous with. This way the reformists promptly sealed the possibilities of this form being actively politicized on a mass scale, allying with the forces such as the Self-Respect Movement struggling against common oppressor powers such as patriarchy, class and caste-hierarchy and feudalism.

Continue reading

প্রাক্তন দেবদাসী মুত্থুক্কান্নাম্মলকে দেখতে গিয়ে ‘সাদির’ নাচকে ফিরে দেখা


(দুর্বার, ডিসেম্বর ২০১৭)

English Translation

দেবদাসী বিতর্ক


কোনো এক দিকে এক পা ফেলে এগোনোকে আরেক দিক থেকে দেখলে আবার এক পা পিছোনো বলে ঠাহর হতে পারে, সে যতই ঢাকঢোল পিটিয়ে ফেলা পা হোক না কেন। প্রাক-ঔপনিবেশিক যুগ থেকেই তামিলনাড়ুর শহরে-গ্রামে, রাজার বাড়ি থেকে মন্দিরে, স্থানীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে গ্রাম্য পালাপরবে, বড়-ছোট নানান সভায় হাজির ছিল ‘সাদির’ নাচ, যা এক বিশেষ সম্প্রদায়ের দেবদাসীরা নাচতেন। তাকে অশ্লীলতা দোষে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পাশাপাশি, মোটামুটি তিরিশের দশক থেকে তার পুরোদস্তুর সংস্কৃতায়ন ঘটিয়ে আজকের দিনের ভরতনাট্যমের অভিষেক হয়। এই ঘটনাকে অনেকেই ভারতীয় নারীর এক ধরনের ক্ষমতায়ন, এক বিশেষ ভারতীয় সংস্কৃতির জয় বলে দেখেছিলেন। তাঁদের কাছে ১৯৪৭ সালে পাশ হওয়া ‘প্রিভেনশন অফ ডেডিকেশন অ্যাক্ট’, যা দিয়ে তামিলনাড়ুতে দেবদাসী প্রথা আর তার সাথে পেশা হিসেবে সাদির নাচকে সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করা হয়, এবং এই নাচকে নানা নতুন নিয়মে সাজিয়ে ভরতনাট্যমে রূপান্তরিতকরণের পথটি ছিল একটি শোষণমূলক ব্যবস্থার মুখোশ খুলে দেওয়ারই নামান্তর।

Continue reading

Don’t people get bored of wildlife?

It may occur to you why anyone would write such an article? Well, it’s just as well. When one is bored and broke, and gets an opportunity to be paid for writing whatever comes to its path. But of course all that is only a dream! One remains broke, and bored, and life goes on.


If humans had come to this world out of mere chance from another planet, if there were no means by which they could identify with or interact with the earthly flora and fauna, it might have been boring for them to chase around the wildlife – be it with cameras or guns. As it turns out, this is not the case. Not only humans are not bored with the wildlife, they either invite it partially to their homes, or invite themselves into it to get away from the boredom created by themselves within their own lives. A purpose much deeper than simple decorations, or finding company, or even indulging in adventures might be larking behind this attitude: finding the meaning of life!

Yet, don’t people get bored with wildlife sometimes? After all, the wildlife is not a zoo. To spot an interesting enough animal – say a dolphin in the realm of hundreds of immobile, boring sponges stuck at the bottom of a sea might involve hours of patient waiting, which of course can become tedious like hell. On the other hand, even if you have the opportunity to swim around hundreds of dolphins for days, how long are they going to keep you intrigued? After all, how long do we need to know another species with the aid of the largest brain in the animal kingdom? Aren’t they going to bore us sooner or later? And yet, neither the sponge nor the dolphins seem particularly bored with one another. Well, it is slightly difficult to say if sponges are bored or not since they never do anything anyway, but dolphins – even with their high intelligence – not only have never been known as rolling their beady eyes at the sponges, but sometimes even find a way to make use of them by attaching them to their snout in order to save it from bumping it against the seabed. Now that we know this fact after spending years studying marine life, the boredom that the sponges might evoke in us goes down by a notch. If humans were easily bored with wildlife, such funny facts (not funny for the sponge, in this case) would have remained unknown forever. And a lack of knowledge and understanding of each such little fact leads to another little spoonful of lack of understanding of the meaning of life. Why so?

Continue reading

রান্না, রান্নাবাটি, খেলা, সংসার / শ্রম, অবসর, মূল্য, বাজার

(কোরাস নভেম্বর-ডিসেম্বর  ২০১৬)

রান্না, রান্নাবাটি, খেলা, সংসার

আর পাঁচটা বাঙালি পরিবারের মতো আমারও রক্তে এবং বেড়ে ওঠাতে আছে সু-রাঁধুনিদের ছায়া। অথচ বাড়ির একমাত্র মেয়ে হওয়ার আহ্লাদী সুবাদে আমার ছিলো কুটোটিও নাড়তে না হওয়ার অধিকার এবং বিলক্ষণ অধিকারবোধও। এই গোলেমালে পড়ে বেশ ডাগর বয়েস অব্দিই কাঁপা-কাঁপা বুকে কালো চা, দরকারের চেয়ে বেশি কিম্বা কম পরিমাণ তেল আর নুন দেওয়া ডিমভাজা, কিম্বা গলা-গলা ম্যাগি ছাড়া আর কিছু বানাতে শিখিনি। যেটুকু যা শিখেছি, সবই পরবর্তীকালে একা থাকতে শুরু করার পর। ফলে আজও আমার অনেক ছোটো ছোটো রান্নার কাজ শেখা হয়নি। তার কারণ হয় আমার নিজের সেই বিশেষ খাদ্যটি নিয়ে ততো উৎসাহ ছিলো না, নয়তো এই যে, নিজের খাওয়ার জন্য কে অতো কষ্ট করে! যেমন আজও আমি ঠিক সাহসের সাথে দুধ দেওয়া চা বানাতে পারি না, যেহেতু নিজে খাই লিকার, বা কোনোদিন যদি দুধ দিয়ে খাইও বা, সেটা টুক করে দোকান থেকে কিনে খাবার সুবিধা বা রেস্ত অনায়াসেই ছিলো চিরটাকাল। এই অপারগতা ভালো নাকি মন্দ, তাই নিয়ে আমার একটা দোটানা থেকে গেছে চিরদিন।

মধ্য/উচ্চ-মধ্যবিত্ত, অধিকাংশ ক্ষেত্রবিশেষেই খোলামেলা উদারপন্থী মাতৃতান্ত্রিক, কিন্তু ওদিকে আবার সামাজিক-রাজনৈতিক দিক থেকে কতকটা কূপমণ্ডূক, প্রতিদিনকার নানান আচার-ব্যবহারে জেনে-না জেনে কার্যত সামন্ততান্ত্রিক পরিবারে বেড়ে ওঠা, নব্বইয়ের দশকে বয়ঃসন্ধিতে পড়া আমার মতো অনেক বাঙালি মেয়েই হয়তো আমার এই দোটানাকে চিনতে পারবে। আমাদের আগের দু-তিন প্রজন্মের ‘শিক্ষিত রুচিশীলা দায়িত্বশীলা বাঙালি ভদ্রমহিলা’দের পোঁ ধরে, আমাদের ভবিষ্যৎ তখন আর একেবারেই সরাসরি রান্না শেখা, ঘরের কাজ করা, সংসার করা ইত্যাকার পারদর্শিতার মাপকাঠি দিয়ে বিচার্য ছিলো না। বরং পড়াশুনো, চাকরি, মূল্যবোধ, রুচিবোধ — এইসবই তখন যেন প্রধান, অন্তত উপর-উপর। অথচ আবার মেয়েদের রান্না বা অন্যান্য সাংসারিক কাজ শেখার ঔচিত্যবোধের ধারণাটিও হারিয়ে যায়নি। পরিবারের মানুষ সরাসরি যদি এটা নিয়ে খুব গা নাও করতেন, বৃহত্তর পরিবারে বা সমাজের আর পাঁচটা জায়গায়, এমনকি বই-সিনেমা-থিয়েটারেও তখনও এই ছবি উঠে আসছে। নায়িকা চরিত্ররা আমার ঠাকুমা-দিদিমা-মা-মাসি-পিসিদের মতোই একপক্ষে বহির্মুখী আধুনিকা হলেও অপরপক্ষে গৃহমুখী সু-রাঁধুনি, সংসারের ধারক-বাহকও। এদিকে বাড়িতেও আবার আমার ‘রিয়েল লাইফ’ নায়িকারা রান্না করছেন দেখছি, আবার তারই মধ্যে তাঁদের ভিতর অনেকেই চাকরি করছেন পুরোদস্তুর। ফাঁকে ফাঁকে কখনও কেউ ডেকে বলছেন ‘কাল সকাল থেকে নিয়ম করে বাজারটা করে নিয়ে এসো। আহা রোজ না হোক মাঝেমধ্যে রান্নাঘরে ঢুকে হাত পাকাও কারণ এসব তো শেখা দরকার’। আবার কেউ বলছেন ‘সে কি ছিছি রান্নাঘরের দিকে ঘেঁষো না, মন দিয়ে পড়ো গিয়ে, যাও’! বাড়িতে কাজ করেন যাঁরা — কেউ পাকাপাকি, কেউ দিনে কয়েক ঘণ্টা (তাঁদের কাজেরও একটা বড় অংশ রান্নাকে কেন্দ্র করে ঘোরে) — তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ চুপচাপ মন দিয়ে কাজ করছেন, আবার কখনও হয়তো অবসরকালে আফশোস করছেন, ‘যদি আমাদের বাবা-মা আমাদের আরও একটু পড়াতে পারতো, যদি তাদের সেই টাকা থাকতো, তাহলে কি লোকের বাড়ি কাজ করতে আসি?’ কেউ আবার আসছেন, বাড়িময় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, নির্দ্বিধায় কাজে ‘গাফিলতি’ করছেন, আবার কাজ নিয়ে বা মাইনে নিয়ে বা পুজোর শাড়ি-বোনাস নিয়ে — অর্থাৎ শ্রমের মূল্য নিয়ে — মা-ঠাকুমার সাথে তেড়ে ঝগড়া করছেন।

Continue reading

Preethi Athreya’s Conditions of Carriage, of Collectivity


(Published in Prachya Review, October 2016)

To carry what?


Chennai-based choreographer Preethi Athreya’s[1] latest work Conditions of Carriage started as a ‘jumping project’. The jumps were to take place in and out of a square pit created by late visual artist Dashrath Patel at SPACES, which is at present a venue for artistic practices and performances in Chennai. The process took off with an open invitation to performance practitioners from India and Srilanka. The current title came later from the tagline to be found in boarding passes for aircrafts. It can be seen as an ironical name for this work, because what this work deals with as ‘objects’ of carriage, are far from the dead weights, which are referred in the original context of this phrase.

In her process of searching for an “honest, functional body”, Preethi aspires to deal with not simply that body, but the mind behind it, and more interestingly as well as more abstractly what can possibly be called the ‘soul’ that dreams of and drives that body to fly in the air, or holds it firmly and almost wisely rooted to the ground. Even though this way of looking at bodies make the underlying process infinitely more complex than binary logic that machines are prone to follow, still, certain images in this work do imitate machines. Parts of this piece have been compared to ball-sockets, circuits, clocks, inside of a scanner and so on. But when one sees the work more closely, the humanness within those images of mechanical references can easily be found, and then the piece becomes beautiful.


Continue reading

Re-viewing Activism and Art via SPACE Theater Ensemble (STE)


(Published in Indie Art Zine, August, 2016)

Looking into the possibilities of art-activism symbiosis

STE is a branch of SPACE—The Society for Promoting the Arts, Culture and Education, based in Goa. It functions as a travelling theater troupe offering workshops and performances, featuring a varying number of young energetic artists. Content-wise, their areas of interest also fit into the category of cultural activism. One finds that intriguing, because activism and art do not always go well hand in hand. Although both involves, in their own ways, means to reach out to people—the more the merrier. At various levels they need each other too.

A direct information-feed provided by an external agent—in particular an activist propaganda— may sound like a dictation or a sermon if it lacks a physical, emotional and intellectual involvement of the audience. Because it becomes either decontextualized and uninteresting due to lack of exposure of the audience to the corresponding history (hence their lack of identification with the underlying issue), or a drag due to lack of articulation skill on the agent’s part. Whereas an indirect representation of the same information through art may appear more approachable, and thus may be able to propagate that same information to the same audience through an abstract ‘masking’ of the feed. Thus the audience who were at the receiving end of the information turn into an active interpreter of the information and hence an insider—an ‘activist collaborator’. The skill of a good political orator, for example, or even of a teacher is comparable to that of a performance artist.

Artistic representations sometimes may also be able to provide a succinct, self-sufficient background of the context (e.g. through skits or songs or infographics), which then may be perceived by the audience as an abbreviated version of the larger scenario and generate interest in the latter.

On the other hand, art is essentially a faction of semantics—creating meaningful signs that the artist uses to express observations and opinions. Moreover, art too often aspires to talk about socio-political-economic issues in some form or the other through its various tools (forms and techniques) of ‘masking’, and needs to be seen—in order to become worthy of exploration—not merely as whims of individual agents, but a channel of development of communication among growing number of people. In this perspective, art may and does become a parallel documentation of not only culture but history and sociology, economic and political theories.

This is why it is important to understand for every artist where her art comes from. Not just the brain and the soul, but in terms of sources of inspiration, intent, target audience and last but not the least funding. It is equally important for every active member of the audience to demand to probe into the process as much as the product which is being presented to her through art, in particular performances. And this is also why it is vital for the artist to differentiate whether to perceive her creation as a commodity or an expression. Because, even when it comes to commodity products, the audience (or the buyer) is some sort of an insider within the producer-seller-consumer chain. But that is not the same as the ideal of comradery among the activist collaborators.

Speaking about sources of inspiration—it is indeed a performance by STE that inspired me to write this essay. It was not so-to-say a perfect show, nor was it an embodiment of absolutely everything that I would hover on here. But it gave me a very strong starting point to start this discussion. As I try to express in the title, it is not just about reviewing that one particular performance by STE. It is more about some of the above-mentioned aspects in the case of performing arts and activism, in terms of my own understanding revisited through that performance. Nonetheless, I am grateful to the STE performance for representing images and processes of this kind of activist collaboration that has haunted me for a long time.

Par Larsson

STE (Photo: Par Larsson)

Activist collaboration in art via STE

Continue reading

Notes on ‘Notes on Chai’


(Published in Aainanagar, May 2016)

“‘…It’s always six o’ clock now.’
A bright idea came into Alice’s head. ‘Is that why so many tea-things are put out here?’ she asked.
‘Yes, that’s it’ said the Hatter with a sigh, ‘it’s always tea-time, and we’ve no time to wash the things between whiles.’
‘Then you keep moving round I suppose?’ said Alice.
‘Exactly so,’ said the Hatter, ‘as the things get used up.’
‘But what happens when you come to the beginning again?’ Alice ventured to ask.
‘Suppose we change the subject,’ the March Hare interrupted, yawning, ‘I’m getting tired of this. I vote the young lady tells us a story.’”

And then the dormouse tells the tale of the three little sisters who lived at the bottom of a well, living on treacle, and were very, very ill all the bloody time.

In fact, something similar happens in actor/writer Jyoti Dogra’s ‘Notes on Chai’.


It is not a coincidence that since April 8th, 2016, when I watched this one-woman act created and performed by Jyoti Dogra at Max Mueller Bhavan, Chennai, I have been encountering the word ‘Chai’ or ‘Tea’ more frequently than before. Dogra loosely weaves a bunch of narratives together through their relationship with tea. The angst and salvation, sin and medicine, love and hate that the mimicked voices of the protagonists of these narratives pour into their cups of tea are bound to make one look differently at her everyday-life revolving around tea—making tea, drinking tea, watching others making or drinking tea, thinking of tea, not thinking of tea, not thinking of others thinking of tea and so on. These voices—very well-observed by Dogra, thus perfectly catching and exaggerating their characteristic nuances—are political in nature. This very politics is also one of the selling-points of her work as this is what makes it something larger than simple mimicry. The Alices, Mad Hatters, March Hares, Dormice and Little Girls living at the bottom of wells that Dogra draws on the stage, strike many a tragicomic chord in the hearts of the audience. But as her work becomes an overt political statement in certain matters, it remains politically blind to certain others.

Tea, in general, can be interesting to an Indian audience for many reasons—being not just a culinary but more of a social ritual in Indian households at every occasion of laughter and sorrow, get-togethers and getting-away, being a symbol of orientalism, representing status statements, style statements, brand names, art, skill, serving as nutrient, laxative, addiction, anti-depressant, being a source of hundreds of roles and professions distinguished by class, caste and gender, being one of the deeply influential colonial residuals, being one of the most important exported goods and last but not the least being one of the biggest Indian industries possessing one of the most unfair labour policies. These are ‘tea-matters’ that affect our lives—sometimes in remote ways—irrespective of whether we acknowledge them or not. But contrary to what the name of the piece suggests, ‘Notes on Chai’ remains blissfully ignorant of most of these, making the title almost a misnomer. Nonetheless, it is a beautifully done piece. Therefore, I may (and I do) stand up for Dogra at the end of the often-mesmerizing 1 hour and 40 minutes, clap, hoot, cheer, appreciate and exclaim, but cannot totally evade some of the questions that comes to my mind—questions to Dogra as a creator and a performer, to fellow audience-members, but most importantly to myself—as a thinking being, as a woman, as Indian, as an addicted, certified, hopelessly devoted tea-drinker.

Continue reading

উড়ুক্কু বিদ্যাসঙ্গীরা


(জয়ঢাক, শীত ২০১৪ সংখ্যা)

আমরা প্রায়ই নানান চারপেয়ে বা উড়ুক্কু বা জলচর প্রাণীর সাথে পোষা কিম্বা বুনো দোস্তি পাতাই বা পাতাবার চেষ্টা করি। বন্ধুত্ব জিনিসটায় বাছাবাছি-দরাদরি নেই। কলকাতায় থাকতে মানুষ-বন্ধুদের আড্ডা ছেড়ে বাইরে তাকাবার সময় পেতামনা বলেই হয়ত এব্যাপারটা নিয়ে তত খুঁটিয়ে ভাবিনি কখনো। এখন কলকাতার বাইরে পড়াশুনো করতে এসে পদে পদে এসব নতুন করে শিখছি।

chhobi1 (2)

তোমরা তো জানো, এই একশ বছর আগেও এদেশে মেয়েরা বাড়ির বাইরে গিয়ে লেখাপড়া করছে এটা ভাবা দূরের কথা, মেয়েরা লেখাপড়া আদৌ করছে এটাই অনেক ক্ষেত্রে একটা মহা অসম্ভব বিষয় ছিল। সেখান থেকে আজ আমরা এমন একটা জায়গায় পৌঁছেছি, যেখানে মেয়েরা রীতিমত শুধু পড়াশুনো করছে তাই নয়, পৃথিবীর নানান জায়গায় গিয়ে একা একা হোস্টেলে কিম্বা ঘরভাড়া করে থেকে, এইসব একা থাকার হাজার ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট একটুও গায়ে না মেখে জটিল বৈজ্ঞানিক গবেষণা করে মস্ত মস্ত জিনিস আবিষ্কার করে ফেলছে। একসময় লোকে কিছু না জেনেশুনেই দাবি করত মেয়েরা অঙ্ক বোঝেনা, আজও যে করেনা তা নয়। অথচ এইতো গত বছর অঙ্কে ভাল গবেষণা করার যেটা সবচেয়ে বড় পুরস্কার, সেই ফিল্ডস মেডালও পেয়েছেন ইরান থেকে এক মেয়ে গণিতজ্ঞ।

Continue reading

সম্মান ও অধিকারের দাবিতে নারিকুরাভাদের সাংবিধানিক লড়াই


(দুর্বার, মার্চ ২০১৬)

ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৬ , রাউন্ডটেবল ইন্ডিয়া ( )-র প্রতিবেদন থেকে অনুদিত

অনুবাদকের ভূমিকা

নারিকুরাভাদের সাথে চেন্নাই শহরে ঘুরতে ফিরতে দেখা হয়। বাসস্ট্যান্ডের পাশে বা সমুদ্রের ধারে ময়লা চট পেতে পুঁতির মালা বিক্রি, ফুটপাতে ছেলে-মেয়ে-কুকুর-বিড়াল নিয়ে ভরভরন্ত সংসার পেতে দিবানিদ্রা, পরিবারবর্গ সমেত দল-কে-দল ‘হারিয়ে গেছি, সাহায্য করুন’ বলে মোড়ে মোড়ে হাত পেতে দাঁড়ানো এই যাযাবর ‘জিপসি’ নারিকুরাভন উপজাতি সত্যিই ভারতীয় সমাজব্যবস্থার ইতিহাসে, বৈষম্যবাদী আইনের গলিপথে হারিয়ে যাওয়া এমন আরও লক্ষ লক্ষ মানুষের অন্যতম প্রতিনিধি। অন্যদিকে আবার এ দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানেই এঁদের অবস্থার কথা তুলে ধরার মত কোনো প্রতিনিধি নেই।

নারিকুরাভন তামিলনাড়ুর দরিদ্রতম উপজাতিগুলির মধ্যে একটি। এঁদের ভাষা তামিল, তেলেগু ও মারাঠি মেশানো, যার নাম ভাগরি বোলি। ‘নারি’ শব্দের অর্থ ‘শিয়াল’, ‘কুরাভার’ – মানুষ। শিয়াল ধরার ফাঁদ বানাতে ওস্তাদ এই উপজাতির আদি জীবিকা ছিল শিকার। ক্রমশ এঁরা নিজেরাই জাত-ভেদ, প্রশাসনিক অত্যাচার, এবং একচোখো সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন ও নগরায়নের শিকার হয়ে কর্মসংস্থান হারান। অরণ্যে প্রবেশ ও শিকারের উপর আইনি বাধানিষেধ সৃষ্টির ফলে (ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এ প্রসঙ্গে অনেকগুলি আইন জারি হয়) ও সাধারণভাবে সমাজের বহুমুখী চাপে কোণঠাসা হতে হতে এঁরা অন্যান্য খুচরো পেশা বেছে নিতে থাকেন – যেমন নানান পুঁতির মালা, ঝুড়ি প্রভৃতি তৈরি ও বিক্রি, বাসনপত্র ও জড়িবুটি বিক্রি, জ্যোতিষচর্চা, কাগজ কুড়নো – সবই রাস্তায় ঘুরে ঘুরে। ফলে এভাবেও বলা যায় যে, সমাজ এঁদের যাযাবর হতে বাধ্য করেছিল। এদিকে হতদারিদ্র্য, বৈষম্য ও জীবনধারণের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাবে এঁদের মধ্যে ‘অপরাধী’র সংখ্যা বাড়তে থাকে – অন্তত প্রচলিত আইনি দৃষ্টিভঙ্গী অনুযায়ী। চুরিডাকাতি, জালিয়াতি, চোরাশিকার ইত্যাদি নানা খুচরো অপরাধে এঁদের গ্রেপ্তার করা হয় প্রায়ই। কারণ দেশের সামগ্রিক অপরাধের মাত্রা বিচারে এঁদের অপরাধের ভার তুচ্ছ হলেও এঁদের গ্রেপ্তার করা সহজ, সহজ এঁদের উপর দোষ চাপিয়ে দেওয়া।

১৮৭১ সালে ব্রিটিশ সরকার নারিকুরাভন সমেত এ দেশের ১৫০টি জনগোষ্ঠীকে ‘ক্রিমিনাল’ বা অপরাধী তকমা দেয়। এই গোষ্ঠীগুলির প্রতিটিই দরিদ্র ও তথাকথিত ‘নীচু জাত’, অর্থাৎ কিনা যাঁদের ঘাঁটালে সমস্যা নেই, উপরন্তু যাঁদের ধরপাকড় করলে পুলিশি তৎপরতার পরাকাষ্ঠা দেখানোর একটা সহজ পথ খুলে যায়, কেননা এ দেশের তথাকথিত ‘উচ্চ’ বর্ণের মানুষও এঁদের এইভাবে দেখতেই অভ্যস্ত ছিলেন। শাসনব্যবস্থার এই কার্য-সমীকরণ আজও ব্যাহত হয়নি। যদিও ১৯৫২ সালে এই গোষ্ঠীগুলিকে ‘ডিনোটিফায়েড’ করা হয়, অর্থাৎ অপরাধীর তকমা খুলে নেওয়া হয়, কিন্তু তাতে তাঁদের প্রতি বাদবাকি সমাজের ব্যবহার বিশেষ বদলায়নি। নারিকুরাভনদের কথাই ধরা যাক – বর্তমানে তামিলনাড়ুর শহর ও মফস্বলের নোংরা বস্তিতে বা ছোট ছোট প্রান্তিক গ্রামে এঁদের বসবাস। অসুখ, অশিক্ষা, দারিদ্র্য, সামাজিক ঘৃণা ও পুলিশি ধরপাকড় এঁদের নিত্যসঙ্গী। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ছাড়াও যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা আমরা অনেকেই স্বাভাবিক অধিকার বলে জেনে এসেছি, তেমন বহু ক্ষেত্রেই এঁদের প্রতিনিয়ত লড়াই চালিয়ে যেতে হয় –  যেমন নিত্যব্যবহার্য জল, স্থায়ী বসবাসের জমি ও তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ব্যাঙ্ক লোন ইত্যাদি, কিন্তু এই লড়াই সবচাইতে বেশি সম্মানের, সহমর্মের। ভারতবর্ষের অধিকাংশ ‘ডিনোটিফায়েড’ উপজাতিরই এই একই ইতিহাস।

নারিকুরাভারা বর্তমানে রাজ্য সরকারের বিচারে ‘মোস্ট ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস’ (MBC) বলে গণ্য হন। এঁরা তফশিলি উপজাতিভুক্ত (ST) হওয়ার জন্য আন্দোলন চালিয়ে আসছেন দশকের পর দশক ধরে। হালে, ২০১৫-র লোকসভায় এই লড়াই আরও একবার অসাফল্যের মুখ দেখল। এ নিয়ে আন্দোলন চলাকালীন তামিলনাড়ু নারিকুরাভন কুরুভিকরন ওয়েলফেয়ার ফেডারেশন (TNKWF)-এর কো-অর্ডিনেটর এম জয়শঙ্কর বিবৃতি দেন যে, নারিকুরাভারা যদি MBC থেকে ST হিসেবে গণ্য হতে পারেন, তাহলে উচ্চ সরকারি পদে তাঁদের চাকরি পেতে সুবিধা হতে পারে এবং তাতে সামগ্রিকভাবে তাঁদের গোষ্ঠীর উন্নতিসাধন হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে, বর্তমানে ত্রিশ-চল্লিশ হাজার নারিকুরাভার মধ্যে মাত্র একজন মহিলা – ইন্দিরা – এ জাতীয় সরকারি পোস্টে আছেন (ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার, চেন্নাই)।

এইসব নিয়েই এই প্রতিবেদন।

রাউন্ডটেবল ইন্ডিয়া-র প্রতিবেদন

NDMJ-NCDHR (ন্যাশনাল দলিত মুভমেন্ট ফর জাস্টিস-ন্যাশনাল ক্যাম্পেন অন দলিত হিউম্যান রাইটস)

Continue reading

চেন্নাই ফ্লাড স্টোরি : মিথ্যে নিয়ে সত্যি কথা


(দুর্বার, জানুয়ারি ২০১৬)

আমার কথা

আমার আদত বাড়ি কলকাতায় হলেও ২০০৭ সাল থেকে আমি চেন্নাইবাসী। ছোটবেলায় বন্যা মানে কয়েকটি ছুটির দিন এবং জল ছপছপিয়ে খেলার আনন্দই বুঝতাম। মাঝে বহু বছর বন্যা বলতে শুধুই টিভির খবরে ঘোলা জল ছিল। চেন্নাইয়ের এই ভীষণ বন্যা এই বিশেষ প্রাকৃতিক দুর্যোগটিকে অনেকটা কাছ থেকে দেখার সুবিধা করে দিল। ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আবারও ছুটির আনন্দে ছপ ছপ করে ঘুরে বেড়িয়ে কাটালাম কয়েকটি দিন।

এই বন্যায় এক বিপুল সংখ্যক মানুষ ব্যাপক অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন – তাঁরা সমাজের বিভিন্ন স্তরে বসবাস করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই ব্যাপারটা মজার – এক অর্থে বিত্ত, পেশা, সামাজিক অবস্থান, লিঙ্গ ইত্যাদি তেমন কোনো গ্রাহ্য বিষয় নয়। আবার অন্যদিক দিয়ে দেখতে গেলে এই বৈশিষ্টগুলি মানুষকে যেকোনো রকমের দুর্যোগ থেকেই বাঁচার কিছু অতিরিক্ত সুবিধা বা অসুবিধা তৈরি করে দেয়। তার উপর কোনো মানুষের বা কোনো গোষ্ঠীর জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা কখন সর্বজনগ্রাহ্যভাবে ‘দুর্যোগ’ তকমা পাবে, তারও মানদণ্ড হিসেবে এইজাতীয় নানা বৈশিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

চেন্নাইয়ের দুর্যোগে দেখা যাচ্ছে এমনকি বহু উচ্চবিত্ত মানুষেরও বাসভবন থাকার অযোগ্য হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ চেন্নাইয়ের ভেলাচেরি থেকে শুরু করে বিস্তীর্ণ জলাভূমির উপর তৈরি যে ‘নব চেন্নাই’ – সেখানে জল প্রায় দোতলা অব্দি উঠেছে। উত্তর ও মধ্য চেন্নাইয়ের বহু এলাকা, টি-নগর, কোট্টুরপুরম, পোরুর, ভলসেরাবক্কম, আম্বাত্তুর ইত্যাদি বহু এলাকায় মানুষ বুক অব্দি উঁচু নর্দমা ও বৃষ্টির মিলেমিশে যাওয়া জল ঠেলে – স্কুলের পাঠ্যবইয়ে আঁকা বন্যার্ত গ্রামবাসীদের ছবির মত – মাথার উপর জামাকাপড়-বাসনপত্র-টিভি-কম্পিউটার-শিশুদের তুলে ধরে হেঁটে গেছেন শুকনো ডাঙার খোঁজে। হাতের কাছে রবার, হালকা বাক্স, কাঠের টুকরো, প্লাস্টিক এইসব যা পাওয়া গেছে তাই দিয়ে ছোট ছোট নৌকো বানিয়ে ত্রাণের কাজ করেছেন অনেকে, কিছু কিছু এলাকায় ওলা কোম্পানির রবারের নৌকো চলতে দেখা গেছে। রিসার্ভয়ারগুলি যেসব এলাকায় জল ধরে রাখতে না পারায় ওভারফ্লো করেছে, সেখানে দেখা গেছে বাইক চালাতে চালাতে কেউ কেউ জলের তোড়ে স্লিপ খেয়ে খালে পড়ে গেছেন এবং সম্ভবত মারাই গেছেন। টিভি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব ছবি বারবার দেখানো হয়েছে। তার ফলে যাঁরা অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায় থাকায় এই সমস্যায় পড়েননি, অন্যান্য শহরে তাঁদের পরিবার-পরিজন খবর না পেয়ে উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েছেন। এর প্রধান কারণ দুর্যোগের প্রথম দু-তিন দিন প্রায় সমস্ত ল্যান্ড ফোন, মোবাইল ও ইন্টারনেটে যোগাযোগের রাস্তা বন্ধ ছিল।

যেমন আমি। আমি থাকি ইন্দিরা নগর বলে একটি জায়গায়, যেখানে কিছু রাস্তা জলমগ্ন হলেও বাকি রাস্তাগুলি বেশ শুকনো ছিল। তাই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে হলে খানিকটা নোংরা হাঁটুজলে নামতে হয়েছিল বটে, বাকি শহরের মত এখানেও বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় মোমবাতি আর টিউবওয়েলের জলে কাজ চালাতে হচ্ছিলও বটে, কিন্তু তা বাদে কোনো বড় রকমের সমস্যায় পড়তে হয়নি। তার উপর ফোন আর ইন্টারনেট কাজ না করায় বন্যার নানান ভয়াবহ সত্যিমিথ্যে দৃশ্য ও ঘটনা, যা অন্য শহরে মানুষ সহজেই দেখতে পাচ্ছিলেন, তার কিছুই দেখতে বা জানতে পারিনি। ফলে তেমন একটা দুশ্চিন্তাও হয়নি। পর্যাপ্ত গ্যাস থাকায় ভালমন্দ রান্না করে খেয়েছি, মোমের আলোয় বিস্তর গল্পের বই পড়েছি। অবশ্য ভাগ্যক্রমে আমার কাছে কয়েকদিনের জন্য যথেষ্ট খাবার ও পানীয় জল ছিল। যাঁদের তা ছিলনা, তাঁরা সমস্যায় পড়েছিলেন, কারণ রাতারাতি সমস্ত দোকান থেকে মিনারেল ওয়াটার, চাল, ময়দা, পাঁউরুটি, মোমবাতি, তেল, দুধ, তরিতরকারি – এই জিনিসগুলি উধাও হয়ে যায় আর বৃষ্টির কারণে সাপ্লাইও বন্ধ থাকে। শুনেছি শহরের কোথাও কোথাও এসব চড়া দামে বিক্রি করা হয়েছে, কিন্তু আমি প্রত্যক্ষে তেমন কিছু দেখিনি। যাঁরা রোজ কি ঘটছে না ঘটছে এ বিষয়ে বেশি ওয়াকিবহাল, তাঁরা নিশ্চয় এই দুর্যোগ সম্পর্কে আগেই খবর পেয়েছিলেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে রেখেছিলেন। পরের দিকে, শহরে না মিললেও, শহরের বাইরের অঞ্চলগুলি থেকে দুধ, চাল, তরকারি আনার ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন অনেকে।

দুর্যোগের দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ডিসেম্বরের ২ তারিখ সকালে ইন্দিরা নগর আর তার চারপাশের কয়েকটি অঞ্চলে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক ঘুরে বেড়িয়েও মোমবাতি কিনতে পারলামনা। আশ্চর্যজনকভাবে যদিও তার আগের রাতেই এক-দেড় কিলোমিটার হেঁটে কোমরজল ভেঙে বাস-মেট্রো পাল্টে বাড়ি পৌঁছেছি, তবুও ওই মোমবাতির অভাবে প্রথমবার মনে হল আমার চারপাশের দৈনন্দিন পৃথিবীটা কোথাও একটা পাল্টে গেছে – যেমন হলিউডের ঘোরতর দুর্যোগবিষয়ক সিনেমাগুলিতে দেখানো হয় – র‍্যাট-ব্যাট-ভলক্যানো-টুইস্টার-বার্ডস এইসবে – যে এক রোদ-ঝলমলে সকালে, হিরো বা হিরোইন বা কেউ একজন বাড়ির বাইরে বেরিয়ে হয়তো বা রাস্তার একধারে একটা ছোট্ট ফাটল বা গাছের নীচে একটা পায়রা মরে পড়ে আছে দেখে খুব সূক্ষ্মভাবে বুঝতে শুরু করলেন (বা তিনি বুঝলেন না, কিন্তু দর্শক বুঝতে পারলেন) যে কি যেন একটা গোলমাল হতে চলেছে! এই হঠাৎ কখন আর পাঁচটা ঘনঘোর বর্ষার দিনের মতই একটা দিন ‘ডিজাস্টারে’ বদলে গেল এটা নিয়ে ব্যক্তিগত আত্মকথার সাত খণ্ড মোটা মোটা বই লিখে ফেলা যায়।

Continue reading

নাচে ছুঁলে কয় ঘা?


(আয়নানগর বইমেলা ২০১৫)

নাচে ছুঁলে কয় ঘা?

আর কতদিন নেচে নেচে বেড়াবি? ওহ নাচেন বুঝি, আর কাজ কি করেন? ষষ্ঠীর দিন মেয়েটা নাচলো দেখলি, পুরো শিল্পা শেঠি! এঃ ব্যাটাছেলে আবার নাচে নাকি! …

মানুষমাত্রেই একা। নৃত্যশিল্পীরা মানুষ, অতএব নৃত্যশিল্পীরা একা। নাচে ছুঁলে ঘা কম নয়, কিন্তু সামান্যে কি তার মর্মে বোঝা যায়?

ভারতীয় মার্গীয় নৃত্যের একটি নিজস্ব ভাষা আছে, যেটা আমাদের পরিচিত বাচিক যোগাযোগের ভাষার মতই নিয়মে বাঁধা। একেকটি শব্দের মত একেকটি মুদ্রার কিছু মানে রয়েছে। আর এই মুদ্রাগুলির – অন্তত মৌলিক একসেট মুদ্রার অর্থ বেশ চিত্রানুগ। যেমন হরিণের মুদ্রায় তিনটি আঙুল জুড়ে হরিণের সরু মুখটি আর দুপাশে দুটি আঙুল দিয়ে কান উঠে আছে, সাপের মুদ্রায় ছোবল – এইসব আর কি। এছাড়াও যোগাযোগের উপাদান হিসেবে আছে নবরস – শৃঙ্গার, ভয়, শান্তি, রাগ, লজ্জা-টজ্জা। এরপর আসে ওই মৌলিক মুদ্রা ও রসগুলির পার্মুটেশন-কম্বিনেশনে নির্মিত জটিল শব্দ ও বাক্য, যেমন হরিণ গাছের তলায় দাঁড়িয়ে আছে, সে সাপ দেখে ভয়ে আঁতকে উঠলো। আবার দুঃশাসন বোঝাতে একহাতে রাজার মুদ্রা, আরেকহাতে কুটিল সর্পমুদ্রা, সতীন বোঝাতে দুই হাতে নারী দেখিয়ে তারপর দড়ির ফাঁস দেখানো (আমি অবশ্য অভিনয় দর্পণ, হস্তলক্ষণদীপিকা, নাট্যশাস্ত্রটাস্ত্র – যখন যেটা মাথায় আসছে শুট করছি, কেউ ভুল ধরলেই কান ধরব) – এইভাবে ভাষাটা ডেভেলপ করে। অতএব দৈনন্দিন জীবনের সহজ এক্সপ্রেশনের কাজটা মার্গীয় নাচ দিয়ে অনেকটাই কভার করে ফেলা যায়। নাচের আদিযুগে পার্ফর্মেটরি স্টোরি-টেলিঙের জায়গা থেকে এই যোগাযোগের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মানুষ যেমন যোগবিয়োগে খুশি না থেকে ডিফারেনশিয়াল ক্যালকুলাসের পিছনে ছোটে, তেমনি নাচের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে নৃত্যশিল্পীরা শরীরের সহজ অভিব্যক্তি ও কথোপকথনে খুশি থাকেননি। তাঁদের মধ্যে কেউ নাচ জিনিসটাকে জিমনাস্টিক হিসেবে দেখতে চেয়েছেন, কেউ রূপচর্চা, কেউ আবার দেখেছেন রাজনীতি বা দর্শন হিসেবে। নাচের সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্কের নয় নয় করে পঁচিশ বছর হয়ে গেল, তাই স্বাভাবিকভাবে আমারও স্টকে রয়েছে একটা দেখার ধরণ, বহু প্রশ্ন, কিছু উত্তর। বিশেষ করে গত দেড়-দুবছরে ইণ্ডিয়ান কনটেম্পরারি নাচের একটি শাখার সাথে যুক্ত থাকায় হালের অনেক প্রশ্নই উঠে এসেছে ওই জায়গা থেকে। এ লেখা সেসব নিয়েই। একে ভারতীয় আধুনিক নাচের ক্র্যাশ কোর্স হিসেবে ধরলে বিষম খাব, বলা ভালো – এটা ভারতীয় নাচ, বিশেষত আধুনিক ভারতীয় নাচ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত ধ্যানধারণার মিনি পাঁচালিবিশেষ। ফলে উদাহরণ যা দেব, মূলত আমার চর্মচক্ষে দেখা নাচগুলির থেকেই দেওয়ার চেষ্টা করব। আরেকটা কথা বলে রাখা ভালো, হয়তো শিল্পী ও তাঁদের শিল্পকর্মের নাম না করেও অনেক ব্যাপার কথায় বুঝিয়ে দেওয়া যেত; তাও আমি লেখাটিকে একটু নামভারাক্রান্ত করেছি, যাতে কারুর যদি মনে হয় ইউটিউব বা অন্যান্য অনলাইন আর্কাইভে গিয়ে এই নাচগুলির কোনোটা বা এদের সম্বন্ধিত কোনো ভিডিও দেখবেন বা রিভিউ, অন্যান্য আলোচনা পড়বেন, তাহলে তার একটা সহজ সুযোগ থাকে।

এব্যাপারে ছোট করে একটা ব্যক্তিগত কথা বলি। ভারতীয় কনটেম্পরারি নাচের এক্সপ্রেশনে নানা রস উঠে আসতে দেখেছি, কিন্তু গুড কোয়ালিটি হাস্যরসের কিছু অভাব আছে মনে হয়েছে। এর একটা কারণ হতে পারে, যে ভারতের মার্গীয় নৃত্যশাখার সুগভীর শিকড়ের তুলনায় এই সাবজেক্টটা সবে ছড়াতে বা স্বীকৃতি পেতে শুরু করেছে। তাই একটা জিনিসকে আগাপাশতলা চিনলে যেমন তার ফর্মের মধ্যে থেকেই তার বোকামি-ছোটমি নিয়ে রঙ্গব্যাঙ্গ করা যায়, সেই অবস্থান এখনো তৈরি হয়নি। আরেকটা কারণ কি এই যে কনটেম্পরারি মানুষের জীবনে হাস্যরসের একটা জেনুইন ভাঁটা পড়েছে, আর তাই তার শারীরিক এক্সপ্রেশনও অমনি কঠোর? মানে কনটেম্পরারি নাচ বলতে যদি গোদাভাবে শারীরিক বিমূর্ততা বুঝি, ক্লাসিকাল নাচের কাহিনিধর্মিতার তুলনায়, তাহলে সেই বিমূর্ততার রসটি কি শুধুই গাম্ভীর্য্যের? হাস্যরসের কথাটা তুললাম কারণ এর অভাবটা — আমার অনেক সময় মনে হয়েছে — কনটেম্পরারি নাচ ও ‘সাধারণ মানুষে’র মধ্যে একটা দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। যাই হোক, এ নিয়ে আর কথা বাড়াবনা। এমনিতেই পেশায় ও ভাবভঙ্গীতে শুষ্ক একাডেমিক হয়েও তুলকালাম নাচের নেশায় ডান্স-ফিল্ডের যত্রতত্র ট্রেসপাস করার সুবাদে নাচের লোকেরা আমায় একটি নিরীহ কিন্তু উদ্ভট জীব বলে গণ্য করেন। এই ধরুন, আমি যখনই কাউকে নাচের লাইনের কায়দা মত শত্রুমিত্রনির্বিশেষে কদিন বাদে বাদে দেখা হলে হাগ করতে কি হাগিত হতে যাই, তখনই ইনেভিটেবলি কোন দিকে মুখটা রাখতে হবে সেব্যাপারে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি আর প্রত্যেকবার সেই কলেজফেস্টে লাইটম্যান জলধরদাকে বাই মিস্টেক গণ্ডে পেক করার কেস হয়। এইরকম আরো নানান ছোটবড় হাস্যকর ডেকোরাম খিচাইন আমার লেগেই থাকে। আবার সেদিন আমার এক নৃত্যশিক্ষক স্নেহের সাথেই ডেকে আমায় বললেন — জানিস তো আমাদের নতুন প্রোডাকশনটা নামছে, সবার সব ঠিক করা হয়ে গেছে কে কি করবে, তা তুই কি একটা কিছু করবি? তাতে অন্তত পুরো বিষয়টার একটা কমিক রিলিফ হবে, সবাই সিরিয়াস কাজ করছে তো…

রুস্তম ভারুচা যেমন নিজেকে কনটেম্পরারি নৃত্যশিল্পী চন্দ্রলেখার নাচের জগতের ‘ক্রিটিকাল ইনসাইডার’ বলেছিলেন, আমিও হয়তো তেমনি যে নাচের মানুষগুলির গায়ে লেপ্টে থাকার চেষ্টা করি, নিজেকে তাঁদেরই নৃত্যজগতের ‘জেস্টিং ইনসাইডার’ বলে ভাবতে পছন্দ করি। লেখার মুডটিও তাই একটু ভাঁড়ামি-ঘেঁষা বলে মনে হতে পারে। আমার জীবনের সবচেয়ে ভীতিপ্রদ শিক্ষক, শৈশব থেকে শুরু করে দীর্ঘ পনের বছর যাঁর স্নেহের মিঠেকড়া স্বাদ নিতে নিতে নাচের অ-আ-ক-খ শিখেছি, তিনি এ লেখা পড়লে গোল গোল চোখ করে তাকাতেন — এই সম্ভাবনার বিষম দায় ঘাড়ে নিয়ে লেখা শুরু করছি।

Continue reading

Recipe for a Pepsi-cuisine

I had a brand new experience last night. Of dropping a Pepsi bottle right in the middle of the room and the content going WHOOSH all over the floor, okay, not all over, but say three fifth of it. I should have taken a photo of it. This sort of description only goes well with visual evidence; no one believes word of mouth any more.

Pepsi is a funny thing. Apparently some dude somewhere boiled or did a similar shit to it. And what he got was some thick tar-like viscous weirdass object that none of us would want to taste even if paid for it. I am not going to link or hyperlink to the video or anything. I heard it from the mouth of a friend and I believed, particularly after what happened last night. One should try to find it in Youtube. All these visual evidence type stuff are to be found there.

As soon as I dropped the bottle the fluid, like a gigantic dark red amoeba, filled the space with its random vicious limbs. I wiped it once, I wiped it twice, I wiped it five times at a row, each time after the previous wipe dried up. When the floor was equally sticky as it was before, I started wiping right along the map of the semi-transparent trajectory of what was supposed to be a soft drink but resembled a hard glue, and systematically invaded inside, to no avail. Then I gave up and asked my mother what to do and she said, she didn’t know jesus that kind of horsecrap never happened to her. So she asked our maid, who without even thinking promptly said, I should wipe it well with some soap water.

That was a great idea. Just that I did not have any soap. For, like a month or so.

Today morning I asked a security guard who works at our hostel to kindly ask, if he would please, one of the sweepers to kindly clean my room, if she would please, please. But the staff here are free souls you see, which is a great thing, shows us oppressive bourgeoisie Indian middle class bastards a thing or two. It does. So I went out in the evening and bought some detergent powder. What other kinds of soaps are there? Oh yes, floor cleaners. But this is like, the end of the month, and floor cleaners…come on. I also needed a mop, which I did not have, but you do not get mops out here, not within the radius of a kilometer of this place. Beyond one kilometer, yes, but not within. And come on, a mop too now?!

So I finished the cleaning and it sort of looks okay now, though I cannot be sure if it is indeed okay or just that I got used to the stickiness somewhat.

Mate, Macha, here is a recipe for you Bro:

Continue reading