সম্মান ও অধিকারের দাবিতে নারিকুরাভাদের সাংবিধানিক লড়াই

 

(দুর্বার, মার্চ ২০১৬)

ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৬ , রাউন্ডটেবল ইন্ডিয়া (http://roundtableindia.co.in/ )-র প্রতিবেদন থেকে অনুদিত

অনুবাদকের ভূমিকা

নারিকুরাভাদের সাথে চেন্নাই শহরে ঘুরতে ফিরতে দেখা হয়। বাসস্ট্যান্ডের পাশে বা সমুদ্রের ধারে ময়লা চট পেতে পুঁতির মালা বিক্রি, ফুটপাতে ছেলে-মেয়ে-কুকুর-বিড়াল নিয়ে ভরভরন্ত সংসার পেতে দিবানিদ্রা, পরিবারবর্গ সমেত দল-কে-দল ‘হারিয়ে গেছি, সাহায্য করুন’ বলে মোড়ে মোড়ে হাত পেতে দাঁড়ানো এই যাযাবর ‘জিপসি’ নারিকুরাভন উপজাতি সত্যিই ভারতীয় সমাজব্যবস্থার ইতিহাসে, বৈষম্যবাদী আইনের গলিপথে হারিয়ে যাওয়া এমন আরও লক্ষ লক্ষ মানুষের অন্যতম প্রতিনিধি। অন্যদিকে আবার এ দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানেই এঁদের অবস্থার কথা তুলে ধরার মত কোনো প্রতিনিধি নেই।

নারিকুরাভন তামিলনাড়ুর দরিদ্রতম উপজাতিগুলির মধ্যে একটি। এঁদের ভাষা তামিল, তেলেগু ও মারাঠি মেশানো, যার নাম ভাগরি বোলি। ‘নারি’ শব্দের অর্থ ‘শিয়াল’, ‘কুরাভার’ – মানুষ। শিয়াল ধরার ফাঁদ বানাতে ওস্তাদ এই উপজাতির আদি জীবিকা ছিল শিকার। ক্রমশ এঁরা নিজেরাই জাত-ভেদ, প্রশাসনিক অত্যাচার, এবং একচোখো সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন ও নগরায়নের শিকার হয়ে কর্মসংস্থান হারান। অরণ্যে প্রবেশ ও শিকারের উপর আইনি বাধানিষেধ সৃষ্টির ফলে (ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এ প্রসঙ্গে অনেকগুলি আইন জারি হয়) ও সাধারণভাবে সমাজের বহুমুখী চাপে কোণঠাসা হতে হতে এঁরা অন্যান্য খুচরো পেশা বেছে নিতে থাকেন – যেমন নানান পুঁতির মালা, ঝুড়ি প্রভৃতি তৈরি ও বিক্রি, বাসনপত্র ও জড়িবুটি বিক্রি, জ্যোতিষচর্চা, কাগজ কুড়নো – সবই রাস্তায় ঘুরে ঘুরে। ফলে এভাবেও বলা যায় যে, সমাজ এঁদের যাযাবর হতে বাধ্য করেছিল। এদিকে হতদারিদ্র্য, বৈষম্য ও জীবনধারণের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাবে এঁদের মধ্যে ‘অপরাধী’র সংখ্যা বাড়তে থাকে – অন্তত প্রচলিত আইনি দৃষ্টিভঙ্গী অনুযায়ী। চুরিডাকাতি, জালিয়াতি, চোরাশিকার ইত্যাদি নানা খুচরো অপরাধে এঁদের গ্রেপ্তার করা হয় প্রায়ই। কারণ দেশের সামগ্রিক অপরাধের মাত্রা বিচারে এঁদের অপরাধের ভার তুচ্ছ হলেও এঁদের গ্রেপ্তার করা সহজ, সহজ এঁদের উপর দোষ চাপিয়ে দেওয়া।

১৮৭১ সালে ব্রিটিশ সরকার নারিকুরাভন সমেত এ দেশের ১৫০টি জনগোষ্ঠীকে ‘ক্রিমিনাল’ বা অপরাধী তকমা দেয়। এই গোষ্ঠীগুলির প্রতিটিই দরিদ্র ও তথাকথিত ‘নীচু জাত’, অর্থাৎ কিনা যাঁদের ঘাঁটালে সমস্যা নেই, উপরন্তু যাঁদের ধরপাকড় করলে পুলিশি তৎপরতার পরাকাষ্ঠা দেখানোর একটা সহজ পথ খুলে যায়, কেননা এ দেশের তথাকথিত ‘উচ্চ’ বর্ণের মানুষও এঁদের এইভাবে দেখতেই অভ্যস্ত ছিলেন। শাসনব্যবস্থার এই কার্য-সমীকরণ আজও ব্যাহত হয়নি। যদিও ১৯৫২ সালে এই গোষ্ঠীগুলিকে ‘ডিনোটিফায়েড’ করা হয়, অর্থাৎ অপরাধীর তকমা খুলে নেওয়া হয়, কিন্তু তাতে তাঁদের প্রতি বাদবাকি সমাজের ব্যবহার বিশেষ বদলায়নি। নারিকুরাভনদের কথাই ধরা যাক – বর্তমানে তামিলনাড়ুর শহর ও মফস্বলের নোংরা বস্তিতে বা ছোট ছোট প্রান্তিক গ্রামে এঁদের বসবাস। অসুখ, অশিক্ষা, দারিদ্র্য, সামাজিক ঘৃণা ও পুলিশি ধরপাকড় এঁদের নিত্যসঙ্গী। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ছাড়াও যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা আমরা অনেকেই স্বাভাবিক অধিকার বলে জেনে এসেছি, তেমন বহু ক্ষেত্রেই এঁদের প্রতিনিয়ত লড়াই চালিয়ে যেতে হয় –  যেমন নিত্যব্যবহার্য জল, স্থায়ী বসবাসের জমি ও তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ব্যাঙ্ক লোন ইত্যাদি, কিন্তু এই লড়াই সবচাইতে বেশি সম্মানের, সহমর্মের। ভারতবর্ষের অধিকাংশ ‘ডিনোটিফায়েড’ উপজাতিরই এই একই ইতিহাস।

নারিকুরাভারা বর্তমানে রাজ্য সরকারের বিচারে ‘মোস্ট ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস’ (MBC) বলে গণ্য হন। এঁরা তফশিলি উপজাতিভুক্ত (ST) হওয়ার জন্য আন্দোলন চালিয়ে আসছেন দশকের পর দশক ধরে। হালে, ২০১৫-র লোকসভায় এই লড়াই আরও একবার অসাফল্যের মুখ দেখল। এ নিয়ে আন্দোলন চলাকালীন তামিলনাড়ু নারিকুরাভন কুরুভিকরন ওয়েলফেয়ার ফেডারেশন (TNKWF)-এর কো-অর্ডিনেটর এম জয়শঙ্কর বিবৃতি দেন যে, নারিকুরাভারা যদি MBC থেকে ST হিসেবে গণ্য হতে পারেন, তাহলে উচ্চ সরকারি পদে তাঁদের চাকরি পেতে সুবিধা হতে পারে এবং তাতে সামগ্রিকভাবে তাঁদের গোষ্ঠীর উন্নতিসাধন হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে, বর্তমানে ত্রিশ-চল্লিশ হাজার নারিকুরাভার মধ্যে মাত্র একজন মহিলা – ইন্দিরা – এ জাতীয় সরকারি পোস্টে আছেন (ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার, চেন্নাই)।

এইসব নিয়েই এই প্রতিবেদন।

রাউন্ডটেবল ইন্ডিয়া-র প্রতিবেদন

NDMJ-NCDHR (ন্যাশনাল দলিত মুভমেন্ট ফর জাস্টিস-ন্যাশনাল ক্যাম্পেন অন দলিত হিউম্যান রাইটস)

Continue reading

চেন্নাই ফ্লাড স্টোরি : মিথ্যে নিয়ে সত্যি কথা

 

(দুর্বার, জানুয়ারি ২০১৬)

আমার কথা

আমার আদত বাড়ি কলকাতায় হলেও ২০০৭ সাল থেকে আমি চেন্নাইবাসী। ছোটবেলায় বন্যা মানে কয়েকটি ছুটির দিন এবং জল ছপছপিয়ে খেলার আনন্দই বুঝতাম। মাঝে বহু বছর বন্যা বলতে শুধুই টিভির খবরে ঘোলা জল ছিল। চেন্নাইয়ের এই ভীষণ বন্যা এই বিশেষ প্রাকৃতিক দুর্যোগটিকে অনেকটা কাছ থেকে দেখার সুবিধা করে দিল। ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আবারও ছুটির আনন্দে ছপ ছপ করে ঘুরে বেড়িয়ে কাটালাম কয়েকটি দিন।

এই বন্যায় এক বিপুল সংখ্যক মানুষ ব্যাপক অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন – তাঁরা সমাজের বিভিন্ন স্তরে বসবাস করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই ব্যাপারটা মজার – এক অর্থে বিত্ত, পেশা, সামাজিক অবস্থান, লিঙ্গ ইত্যাদি তেমন কোনো গ্রাহ্য বিষয় নয়। আবার অন্যদিক দিয়ে দেখতে গেলে এই বৈশিষ্টগুলি মানুষকে যেকোনো রকমের দুর্যোগ থেকেই বাঁচার কিছু অতিরিক্ত সুবিধা বা অসুবিধা তৈরি করে দেয়। তার উপর কোনো মানুষের বা কোনো গোষ্ঠীর জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা কখন সর্বজনগ্রাহ্যভাবে ‘দুর্যোগ’ তকমা পাবে, তারও মানদণ্ড হিসেবে এইজাতীয় নানা বৈশিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

চেন্নাইয়ের দুর্যোগে দেখা যাচ্ছে এমনকি বহু উচ্চবিত্ত মানুষেরও বাসভবন থাকার অযোগ্য হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ চেন্নাইয়ের ভেলাচেরি থেকে শুরু করে বিস্তীর্ণ জলাভূমির উপর তৈরি যে ‘নব চেন্নাই’ – সেখানে জল প্রায় দোতলা অব্দি উঠেছে। উত্তর ও মধ্য চেন্নাইয়ের বহু এলাকা, টি-নগর, কোট্টুরপুরম, পোরুর, ভলসেরাবক্কম, আম্বাত্তুর ইত্যাদি বহু এলাকায় মানুষ বুক অব্দি উঁচু নর্দমা ও বৃষ্টির মিলেমিশে যাওয়া জল ঠেলে – স্কুলের পাঠ্যবইয়ে আঁকা বন্যার্ত গ্রামবাসীদের ছবির মত – মাথার উপর জামাকাপড়-বাসনপত্র-টিভি-কম্পিউটার-শিশুদের তুলে ধরে হেঁটে গেছেন শুকনো ডাঙার খোঁজে। হাতের কাছে রবার, হালকা বাক্স, কাঠের টুকরো, প্লাস্টিক এইসব যা পাওয়া গেছে তাই দিয়ে ছোট ছোট নৌকো বানিয়ে ত্রাণের কাজ করেছেন অনেকে, কিছু কিছু এলাকায় ওলা কোম্পানির রবারের নৌকো চলতে দেখা গেছে। রিসার্ভয়ারগুলি যেসব এলাকায় জল ধরে রাখতে না পারায় ওভারফ্লো করেছে, সেখানে দেখা গেছে বাইক চালাতে চালাতে কেউ কেউ জলের তোড়ে স্লিপ খেয়ে খালে পড়ে গেছেন এবং সম্ভবত মারাই গেছেন। টিভি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব ছবি বারবার দেখানো হয়েছে। তার ফলে যাঁরা অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায় থাকায় এই সমস্যায় পড়েননি, অন্যান্য শহরে তাঁদের পরিবার-পরিজন খবর না পেয়ে উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েছেন। এর প্রধান কারণ দুর্যোগের প্রথম দু-তিন দিন প্রায় সমস্ত ল্যান্ড ফোন, মোবাইল ও ইন্টারনেটে যোগাযোগের রাস্তা বন্ধ ছিল।

যেমন আমি। আমি থাকি ইন্দিরা নগর বলে একটি জায়গায়, যেখানে কিছু রাস্তা জলমগ্ন হলেও বাকি রাস্তাগুলি বেশ শুকনো ছিল। তাই এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে হলে খানিকটা নোংরা হাঁটুজলে নামতে হয়েছিল বটে, বাকি শহরের মত এখানেও বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় মোমবাতি আর টিউবওয়েলের জলে কাজ চালাতে হচ্ছিলও বটে, কিন্তু তা বাদে কোনো বড় রকমের সমস্যায় পড়তে হয়নি। তার উপর ফোন আর ইন্টারনেট কাজ না করায় বন্যার নানান ভয়াবহ সত্যিমিথ্যে দৃশ্য ও ঘটনা, যা অন্য শহরে মানুষ সহজেই দেখতে পাচ্ছিলেন, তার কিছুই দেখতে বা জানতে পারিনি। ফলে তেমন একটা দুশ্চিন্তাও হয়নি। পর্যাপ্ত গ্যাস থাকায় ভালমন্দ রান্না করে খেয়েছি, মোমের আলোয় বিস্তর গল্পের বই পড়েছি। অবশ্য ভাগ্যক্রমে আমার কাছে কয়েকদিনের জন্য যথেষ্ট খাবার ও পানীয় জল ছিল। যাঁদের তা ছিলনা, তাঁরা সমস্যায় পড়েছিলেন, কারণ রাতারাতি সমস্ত দোকান থেকে মিনারেল ওয়াটার, চাল, ময়দা, পাঁউরুটি, মোমবাতি, তেল, দুধ, তরিতরকারি – এই জিনিসগুলি উধাও হয়ে যায় আর বৃষ্টির কারণে সাপ্লাইও বন্ধ থাকে। শুনেছি শহরের কোথাও কোথাও এসব চড়া দামে বিক্রি করা হয়েছে, কিন্তু আমি প্রত্যক্ষে তেমন কিছু দেখিনি। যাঁরা রোজ কি ঘটছে না ঘটছে এ বিষয়ে বেশি ওয়াকিবহাল, তাঁরা নিশ্চয় এই দুর্যোগ সম্পর্কে আগেই খবর পেয়েছিলেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে রেখেছিলেন। পরের দিকে, শহরে না মিললেও, শহরের বাইরের অঞ্চলগুলি থেকে দুধ, চাল, তরকারি আনার ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন অনেকে।

দুর্যোগের দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ডিসেম্বরের ২ তারিখ সকালে ইন্দিরা নগর আর তার চারপাশের কয়েকটি অঞ্চলে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক ঘুরে বেড়িয়েও মোমবাতি কিনতে পারলামনা। আশ্চর্যজনকভাবে যদিও তার আগের রাতেই এক-দেড় কিলোমিটার হেঁটে কোমরজল ভেঙে বাস-মেট্রো পাল্টে বাড়ি পৌঁছেছি, তবুও ওই মোমবাতির অভাবে প্রথমবার মনে হল আমার চারপাশের দৈনন্দিন পৃথিবীটা কোথাও একটা পাল্টে গেছে – যেমন হলিউডের ঘোরতর দুর্যোগবিষয়ক সিনেমাগুলিতে দেখানো হয় – র‍্যাট-ব্যাট-ভলক্যানো-টুইস্টার-বার্ডস এইসবে – যে এক রোদ-ঝলমলে সকালে, হিরো বা হিরোইন বা কেউ একজন বাড়ির বাইরে বেরিয়ে হয়তো বা রাস্তার একধারে একটা ছোট্ট ফাটল বা গাছের নীচে একটা পায়রা মরে পড়ে আছে দেখে খুব সূক্ষ্মভাবে বুঝতে শুরু করলেন (বা তিনি বুঝলেন না, কিন্তু দর্শক বুঝতে পারলেন) যে কি যেন একটা গোলমাল হতে চলেছে! এই হঠাৎ কখন আর পাঁচটা ঘনঘোর বর্ষার দিনের মতই একটা দিন ‘ডিজাস্টারে’ বদলে গেল এটা নিয়ে ব্যক্তিগত আত্মকথার সাত খণ্ড মোটা মোটা বই লিখে ফেলা যায়।

Continue reading

নাচে ছুঁলে কয় ঘা?

 

(আয়নানগর বইমেলা ২০১৫)

নাচে ছুঁলে কয় ঘা?

আর কতদিন নেচে নেচে বেড়াবি? ওহ নাচেন বুঝি, আর কাজ কি করেন? ষষ্ঠীর দিন মেয়েটা নাচলো দেখলি, পুরো শিল্পা শেঠি! এঃ ব্যাটাছেলে আবার নাচে নাকি! …

মানুষমাত্রেই একা। নৃত্যশিল্পীরা মানুষ, অতএব নৃত্যশিল্পীরা একা। নাচে ছুঁলে ঘা কম নয়, কিন্তু সামান্যে কি তার মর্মে বোঝা যায়?

ভারতীয় মার্গীয় নৃত্যের একটি নিজস্ব ভাষা আছে, যেটা আমাদের পরিচিত বাচিক যোগাযোগের ভাষার মতই নিয়মে বাঁধা। একেকটি শব্দের মত একেকটি মুদ্রার কিছু মানে রয়েছে। আর এই মুদ্রাগুলির – অন্তত মৌলিক একসেট মুদ্রার অর্থ বেশ চিত্রানুগ। যেমন হরিণের মুদ্রায় তিনটি আঙুল জুড়ে হরিণের সরু মুখটি আর দুপাশে দুটি আঙুল দিয়ে কান উঠে আছে, সাপের মুদ্রায় ছোবল – এইসব আর কি। এছাড়াও যোগাযোগের উপাদান হিসেবে আছে নবরস – শৃঙ্গার, ভয়, শান্তি, রাগ, লজ্জা-টজ্জা। এরপর আসে ওই মৌলিক মুদ্রা ও রসগুলির পার্মুটেশন-কম্বিনেশনে নির্মিত জটিল শব্দ ও বাক্য, যেমন হরিণ গাছের তলায় দাঁড়িয়ে আছে, সে সাপ দেখে ভয়ে আঁতকে উঠলো। আবার দুঃশাসন বোঝাতে একহাতে রাজার মুদ্রা, আরেকহাতে কুটিল সর্পমুদ্রা, সতীন বোঝাতে দুই হাতে নারী দেখিয়ে তারপর দড়ির ফাঁস দেখানো (আমি অবশ্য অভিনয় দর্পণ, হস্তলক্ষণদীপিকা, নাট্যশাস্ত্রটাস্ত্র – যখন যেটা মাথায় আসছে শুট করছি, কেউ ভুল ধরলেই কান ধরব) – এইভাবে ভাষাটা ডেভেলপ করে। অতএব দৈনন্দিন জীবনের সহজ এক্সপ্রেশনের কাজটা মার্গীয় নাচ দিয়ে অনেকটাই কভার করে ফেলা যায়। নাচের আদিযুগে পার্ফর্মেটরি স্টোরি-টেলিঙের জায়গা থেকে এই যোগাযোগের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু মানুষ যেমন যোগবিয়োগে খুশি না থেকে ডিফারেনশিয়াল ক্যালকুলাসের পিছনে ছোটে, তেমনি নাচের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে নৃত্যশিল্পীরা শরীরের সহজ অভিব্যক্তি ও কথোপকথনে খুশি থাকেননি। তাঁদের মধ্যে কেউ নাচ জিনিসটাকে জিমনাস্টিক হিসেবে দেখতে চেয়েছেন, কেউ রূপচর্চা, কেউ আবার দেখেছেন রাজনীতি বা দর্শন হিসেবে। নাচের সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্কের নয় নয় করে পঁচিশ বছর হয়ে গেল, তাই স্বাভাবিকভাবে আমারও স্টকে রয়েছে একটা দেখার ধরণ, বহু প্রশ্ন, কিছু উত্তর। বিশেষ করে গত দেড়-দুবছরে ইণ্ডিয়ান কনটেম্পরারি নাচের একটি শাখার সাথে যুক্ত থাকায় হালের অনেক প্রশ্নই উঠে এসেছে ওই জায়গা থেকে। এ লেখা সেসব নিয়েই। একে ভারতীয় আধুনিক নাচের ক্র্যাশ কোর্স হিসেবে ধরলে বিষম খাব, বলা ভালো – এটা ভারতীয় নাচ, বিশেষত আধুনিক ভারতীয় নাচ বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত ধ্যানধারণার মিনি পাঁচালিবিশেষ। ফলে উদাহরণ যা দেব, মূলত আমার চর্মচক্ষে দেখা নাচগুলির থেকেই দেওয়ার চেষ্টা করব। আরেকটা কথা বলে রাখা ভালো, হয়তো শিল্পী ও তাঁদের শিল্পকর্মের নাম না করেও অনেক ব্যাপার কথায় বুঝিয়ে দেওয়া যেত; তাও আমি লেখাটিকে একটু নামভারাক্রান্ত করেছি, যাতে কারুর যদি মনে হয় ইউটিউব বা অন্যান্য অনলাইন আর্কাইভে গিয়ে এই নাচগুলির কোনোটা বা এদের সম্বন্ধিত কোনো ভিডিও দেখবেন বা রিভিউ, অন্যান্য আলোচনা পড়বেন, তাহলে তার একটা সহজ সুযোগ থাকে।

এব্যাপারে ছোট করে একটা ব্যক্তিগত কথা বলি। ভারতীয় কনটেম্পরারি নাচের এক্সপ্রেশনে নানা রস উঠে আসতে দেখেছি, কিন্তু গুড কোয়ালিটি হাস্যরসের কিছু অভাব আছে মনে হয়েছে। এর একটা কারণ হতে পারে, যে ভারতের মার্গীয় নৃত্যশাখার সুগভীর শিকড়ের তুলনায় এই সাবজেক্টটা সবে ছড়াতে বা স্বীকৃতি পেতে শুরু করেছে। তাই একটা জিনিসকে আগাপাশতলা চিনলে যেমন তার ফর্মের মধ্যে থেকেই তার বোকামি-ছোটমি নিয়ে রঙ্গব্যাঙ্গ করা যায়, সেই অবস্থান এখনো তৈরি হয়নি। আরেকটা কারণ কি এই যে কনটেম্পরারি মানুষের জীবনে হাস্যরসের একটা জেনুইন ভাঁটা পড়েছে, আর তাই তার শারীরিক এক্সপ্রেশনও অমনি কঠোর? মানে কনটেম্পরারি নাচ বলতে যদি গোদাভাবে শারীরিক বিমূর্ততা বুঝি, ক্লাসিকাল নাচের কাহিনিধর্মিতার তুলনায়, তাহলে সেই বিমূর্ততার রসটি কি শুধুই গাম্ভীর্য্যের? হাস্যরসের কথাটা তুললাম কারণ এর অভাবটা — আমার অনেক সময় মনে হয়েছে — কনটেম্পরারি নাচ ও ‘সাধারণ মানুষে’র মধ্যে একটা দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। যাই হোক, এ নিয়ে আর কথা বাড়াবনা। এমনিতেই পেশায় ও ভাবভঙ্গীতে শুষ্ক একাডেমিক হয়েও তুলকালাম নাচের নেশায় ডান্স-ফিল্ডের যত্রতত্র ট্রেসপাস করার সুবাদে নাচের লোকেরা আমায় একটি নিরীহ কিন্তু উদ্ভট জীব বলে গণ্য করেন। এই ধরুন, আমি যখনই কাউকে নাচের লাইনের কায়দা মত শত্রুমিত্রনির্বিশেষে কদিন বাদে বাদে দেখা হলে হাগ করতে কি হাগিত হতে যাই, তখনই ইনেভিটেবলি কোন দিকে মুখটা রাখতে হবে সেব্যাপারে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি আর প্রত্যেকবার সেই কলেজফেস্টে লাইটম্যান জলধরদাকে বাই মিস্টেক গণ্ডে পেক করার কেস হয়। এইরকম আরো নানান ছোটবড় হাস্যকর ডেকোরাম খিচাইন আমার লেগেই থাকে। আবার সেদিন আমার এক নৃত্যশিক্ষক স্নেহের সাথেই ডেকে আমায় বললেন — জানিস তো আমাদের নতুন প্রোডাকশনটা নামছে, সবার সব ঠিক করা হয়ে গেছে কে কি করবে, তা তুই কি একটা কিছু করবি? তাতে অন্তত পুরো বিষয়টার একটা কমিক রিলিফ হবে, সবাই সিরিয়াস কাজ করছে তো…

রুস্তম ভারুচা যেমন নিজেকে কনটেম্পরারি নৃত্যশিল্পী চন্দ্রলেখার নাচের জগতের ‘ক্রিটিকাল ইনসাইডার’ বলেছিলেন, আমিও হয়তো তেমনি যে নাচের মানুষগুলির গায়ে লেপ্টে থাকার চেষ্টা করি, নিজেকে তাঁদেরই নৃত্যজগতের ‘জেস্টিং ইনসাইডার’ বলে ভাবতে পছন্দ করি। লেখার মুডটিও তাই একটু ভাঁড়ামি-ঘেঁষা বলে মনে হতে পারে। আমার জীবনের সবচেয়ে ভীতিপ্রদ শিক্ষক, শৈশব থেকে শুরু করে দীর্ঘ পনের বছর যাঁর স্নেহের মিঠেকড়া স্বাদ নিতে নিতে নাচের অ-আ-ক-খ শিখেছি, তিনি এ লেখা পড়লে গোল গোল চোখ করে তাকাতেন — এই সম্ভাবনার বিষম দায় ঘাড়ে নিয়ে লেখা শুরু করছি।

Continue reading

To hit a dog

It’s easy to hit a dog!

A cow’s holy till you beat her,
a pig’s filthy till you eat her.

It’s easy to hit a dog.

A drunkard’d just stand and sway,
a fly’d not be there anyway.

It’s easy to hit a dog.

A fish just swims deeper and deeper,
and submarines hardly come cheaper – these days.

So it’s just easy to pick up a log
and hit a dog!

My dear artists – Aabra’ca’Dabra – conjurors of urban street art

April 16, 2015, 17:45. A break between two sax-guitar-sitar jam sessions. Some of them – clothes and palms coated with thick paints – are busy with their brushes on the pitch road along Dhakuria Lake. The two amateur announcers reluctantly get up, once again rub the dust off their jeans and take yet another hesitant step towards the audience. “Here. Look at us once more – two idiots in white – the colour of peace, you see? We are Aabra‘ca’dabra. We like to do art. Art is magic. The space where we live today severely needs magic. We believe that anybody can perform a magical act like we are performing today. And in this time we live, road is the only road leading to that magic.”

They could have just uttered the spell: Aabra’ca’Dabra!

dhakuria4

Dhakuria Lake, Kolkata

The ‘performance’ that they are referring to is urban street art at its purest. It is a nonchalantly crazy blend of paint and music, movement and sound, talent and whim; a deceptively peaceful battle of the arrogance of aesthetic-intellectual elitism (almost annoying, though intriguing) versus the humbleness of rustic-bohemian intimacy (almost endearing, though incomprehensible). Last but not the least, Abra’ca’dabra is a chant about ‘art in protest’ and ‘protest in art’.

8B bus stand: Jadavpur

8B Bus stand: Jadavpur, Kolkata

Street art is often considered to be synonymous to begging – coins all around, a thin circle of half-bewildered half-amused mostly disinterested passerby crowd, an old mangy dog. A’ca’D is all that (except the dog, as of now) and some more. Deeply influenced by certain aspects of the mystic ‘Baul’ way of life, it is not contrary to the concept of begging. Similarly as the Baul, the A’ca’D ‘madhukori’ doctrine uninhibitedly offers its audience a fair share of pleasure, faith, knowledge, experience and realization as well as a promise of an alternate way of life in a coded language of art.

Continue reading

Recipe for a Pepsi-cuisine

I had a brand new experience last night. Of dropping a Pepsi bottle right in the middle of the room and the content going WHOOSH all over the floor, okay, not all over, but say three fifth of it. I should have taken a photo of it. This sort of description only goes well with visual evidence; no one believes word of mouth any more.

Pepsi is a funny thing. Apparently some dude somewhere boiled or did a similar shit to it. And what he got was some thick tar-like viscous weirdass object that none of us would want to taste even if paid for it. I am not going to link or hyperlink to the video or anything. I heard it from the mouth of a friend and I believed, particularly after what happened last night. One should try to find it in Youtube. All these visual evidence type stuff are to be found there.

As soon as I dropped the bottle the fluid, like a gigantic dark red amoeba, filled the space with its random vicious limbs. I wiped it once, I wiped it twice, I wiped it five times at a row, each time after the previous wipe dried up. When the floor was equally sticky as it was before, I started wiping right along the map of the semi-transparent trajectory of what was supposed to be a soft drink but resembled a hard glue, and systematically invaded inside, to no avail. Then I gave up and asked my mother what to do and she said, she didn’t know jesus that kind of horsecrap never happened to her. So she asked our maid, who without even thinking promptly said, I should wipe it well with some soap water.

That was a great idea. Just that I did not have any soap. For, like a month or so.

Today morning I asked a security guard who works at our hostel to kindly ask, if he would please, one of the sweepers to kindly clean my room, if she would please, please. But the staff here are free souls you see, which is a great thing, shows us oppressive bourgeoisie Indian middle class bastards a thing or two. It does. So I went out in the evening and bought some detergent powder. What other kinds of soaps are there? Oh yes, floor cleaners. But this is like, the end of the month, and floor cleaners…come on. I also needed a mop, which I did not have, but you do not get mops out here, not within the radius of a kilometer of this place. Beyond one kilometer, yes, but not within. And come on, a mop too now?!

So I finished the cleaning and it sort of looks okay now, though I cannot be sure if it is indeed okay or just that I got used to the stickiness somewhat.

Mate, Macha, here is a recipe for you Bro:

Continue reading

Travelogue 13 – some of what indeed happened in Toronto

As against what did not exactly happen in Toronto, here is some of what did happen there.

This was at the backyard of the Math. department of Fields Institute (with some coffee stain on it), where I used to read or doodle cutting talks. That girl in the picture here is not me. I never sat there. One evening, while I sipped my free department-coffee and watched without interest like a regular caffeine-addicted voyeur, a couple played table tennis on the cement slab in front of the girl in the picture. Though it is actually some sort of a fountain – not a table at all. Suddenly they stopped playing and started kissing. While they kissed, each held the other’s face with one hand and the table tennis bat with another. It was a complicated dance that they were performing.

Backyard of Fields Institute Math. Dept.

Backyard of Fields Institute Math. department

This was drawn at Beverly Park – where I felt right home since everybody else including the birds and the bees looked high on pot and keen to hump. The whole park smelled of joints. After a while the girl on the left with the hibijibis in her hair started crying – probably got too stoned.

009

Firangis’ Ganja Park

This was at the shore of Lake Ontario at the end of Spandina Avenue – another spot I used to spend time cutting talks, even though it was a long and boring walk other than the Chinatown bit. The shore was beautiful because the lake was deep and blue and mysterious. It was a warm and sunny day, though windy. Both me and the seagull were too comfortably tucked up to move. An oldish Canadian man came to me and said – `Hey I’m an author and I need an illustrator!’ Then he saw my drawing of the seagull and said – `Oh but I need a really good one at that you know?’ and left.

The ruminating seagull

The ruminating seagull

If I Reacted to Other People’s Careers the Way They React to Me Becoming a Mathematician

Finally somebody said it😀

PUT IT ALL ON RED

You’re a doctor? I don’t really know anything about medicine, but can you explain exactly how the endocrine system works in two minutes or less?

You’re a writer? I had a terrible writing teacher in high school. I bet I wouldn’t like you.

You’re a carpenter? You must be super good at carpentering.

You’re a singer? I stopped singing in 11th grade. The last song I sang was… hmmmmm… let’s see… Mozart’s Requiem. I wasn’t very good at that song.

You’re an engineer? I used to play with building blocks when I was a kid. Show me exactly what you’re designing and, if there’s anything I don’t understand, it’s probably your fault.

You’re a banker? So that means you print money, right? What kind of money do you print?

You’re a lawyer? Argue against the Electoral College in front of me right now for my perverse amusement. I’ll just be…

View original post 27 more words